প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
ছবি : সময়ের আলোযৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬) একই উপজেলার তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলামের (২৬) সঙ্গে আব্দুর রউফ সরদারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামির মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য অর্থ দাবি করা হয়। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তার মেয়ে আয়শা সিদ্দিকাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে জেগে ওঠেন জাহানারা খাতুন। পরে ঘরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মা ও তার শিশুকন্যাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় মামলা করেন করেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়। পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালতে চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন।
বিচার শেষে আদালত আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এদিকে এর আগে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অবিলম্বে আসামিকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
সময়ের আলো/আতা