২২ ঘণ্টায়ও নেভেনি কক্সবাজারে গ্যাসের আগুন, সতর্কতা জারি। ছবি : সময়ের আলো কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন ২২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নেভানো যায়নি। এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে ইনানী ছোট খালের উত্তর পাশে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন জ্বলছিল। আগুনের তীব্রতা ও গ্যাসের প্রবাহের কারণে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে দিনভর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, ভূগর্ভের যে স্তর থেকে গ্যাস বেরিয়ে আসছে, সেই স্তরের গ্যাস শেষ হয়ে গেলে আগুন স্বাভাবিকভাবেই নিভে যাবে। এর আগে জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে ভূগর্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে আগুনের চারপাশের ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকা সাধারণ মানুষের প্রবেশমুক্ত ও বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বাপেক্স প্রতিনিধিরা।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেহেতু ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের নিচে তীব্র আগুন জ্বলতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইনানীর ওই এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ মিটারের মধ্যে জনসমাগম না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগুন নিভে যাওয়ার ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আগুন দেখতে ঘটনাস্থলে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসা উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। অন্যদিকে, মাটির নিচ থেকে নির্গত পদার্থটি প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক গ্যাস কি না এবং সেখানে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের মজুত রয়েছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবউল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনার পাশে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। খননকাজ প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে গ্যাসের মতো একটি পদার্থ বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর থেকে আগুন জ্বলতে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
বাড়ি ও গরুর খামারের মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার আঙিনায় কয়েক দিন ধরে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে শ্রমিকেরা কাজ করার সময় হঠাৎ মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। একপর্যায়ে আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই। তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও এখনো তা নেভানো সম্ভব হয়নি।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, সকাল সাতটার দিকে বাড়ির মালিক ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। গ্যাসের প্রবাহ তীব্র হওয়ায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তবে আগুন যাতে আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় মানুষের বসতবাড়ি রয়েছে, পর্যটকদের যাতায়াতও আছে। তাই আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং আশপাশের মানুষকে সতর্ক রাখা জরুরি।
ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগুনের তীব্রতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ওই লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গ্যাস থেকে আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
সময়ের আলো/আতা