সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ছবি : সময়ের আলো আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই ভোটার স্লিপ বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যবহারেরও অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের সমর্থকদের একটি অংশ পেশিশক্তি ও দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার দাবি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুনে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন স্থান ছেয়ে ফেলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নারী কর্মীর পরিবারকে হুমকি এবং আরেক কর্মীর বাসায় গিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন দেলাওয়ার হোসেন। তার দাবি, এসব ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় এনজিও ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একত্র করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের প্রায় ২৪ জন সরকারি চিকিৎসককে দিয়ে তিনটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগও করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ২৮ অক্টোবর ‘মানব কল্যাণ’-এ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াতের প্রার্থী বলেন, তাদের অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্বাচনী বৈঠকে চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগের ক্ষেত্রে দল-মত নির্বিশেষে একই মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা নির্বাচন বর্জন করতে আসেননি; প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান। প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় তারা এখনো আস্থা রাখছেন। তবে ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপদে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ভোটারকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, জেলা সেক্রেটারী মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারী জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ, প্রেস সেক্রেটারী অধ্যক্ষ শাহজালাল জুয়েলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আতা