ফের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এলপিজির

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাজারে নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক ও পরিবেশকেরা। ১২

2026-10-28T23:10:30+00:00
2026-10-29T00:20:32+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
ফের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এলপিজির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পিএম  আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ১২:২০ এএম
এলপিজি সিলিন্ডারের প্রতীকী ছবি । ছবি : সংগৃহীত
বাজারে নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক ও পরিবেশকেরা। ১২ কেজির সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন সর্বোচ্চ আড়াই গুণ এবং পরিবেশকদের তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানিতে বসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি এলপিজির বাজার পরিস্থিতি ও মূল্য নির্ধারণের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

বিইআরসিতে জমা দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারক ও অপারেটরদের বর্তমান ১৯১ টাকা কমিশন বাড়িয়ে বিভিন্ন হারে নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ওমেরা: ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা।
পেট্রোম্যাক্স: ৩৪৯ টাকা।
ডেল্টা: ৩৬০ টাকা।
মেঘনা গ্রুপ: ৩০০ টাকা।

অন্যদিকে, পরিবেশকেরা সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। খুচরা বিক্রেতারা বর্তমান ৪৫ টাকার কমিশন বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবারের গণশুনানিতে এসব প্রস্তাবের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা হবে। তবে কমিশন বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

বিইআরসি নিয়মিত এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত বছরের নভেম্বর থেকে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সে সময় চাহিদার তুলনায় আমদানি কম থাকার যুক্তি দেখিয়ে বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করতে শুরু করেন।


এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট তৈরি হয়। বাজার স্বাভাবিক করতে সরকার শুল্ক কমানো, আমদানির সীমা বাড়ানো এবং ঋণপত্র বা এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার মতো পদক্ষেপ নেয়।

তবে এরপরও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক মাসে দুই দফা দাম বাড়ানো হলেও ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ অক্টোবরে ভোক্তা পর্যায়ে এ সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে এলপিজির চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন। গত আগস্টে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। অক্টোবরেও প্রায় একই পরিমাণ আমদানি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থাৎ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানির পরিমাণ দেশের মাসিক চাহিদার চেয়ে কিছুটা বেশি। তারপরও খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠছে।

২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণের ব্যবস্থা চালু করে বিইআরসি। সে সময় ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ধরা হয়েছিল ১৪৩ টাকা। পরে আমদানিকারক ও অপারেটরদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা বাড়িয়ে প্রথমে ১৮৬ টাকা এবং পরে ১৯১ টাকা করা হয়।

বর্তমানে দেশে এলপিজি আমদানির জন্য ৩০টি নিবন্ধিত কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আমদানি করে। আমদানিকারকদের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজস্ব প্ল্যান্টে বোতলজাত করার কাজে যুক্ত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, কমিশনসহ বিভিন্ন দাবিতে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং গণশুনানির তারিখ ঘোষণার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

এখন কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসির গণশুনানির দিকে তাকিয়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা। কমিশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে তা এলপিজির বিতরণব্যবস্থা ও ভোক্তা পর্যায়ের দামে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

সময়ের আলো/এসকে
  বিষয়:   এলপিজি  দাম  বাড়ানো  প্রস্তাব  বাড়ানোর প্রস্তাব  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: