জাপান-বাংলাদেশ আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশের প্রসঙ্গ ছিল না : হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

জাপানের সঙ্গে বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) নিয়ে আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আসেনি বলে জানিয়েছেন

2026-10-30T17:42:42+00:00
2026-10-30T17:42:42+00:00
 
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
জাপান-বাংলাদেশ আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশের প্রসঙ্গ ছিল না : হুমায়ুন কবির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম 
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
জাপানের সঙ্গে বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) নিয়ে আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আসেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এ উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের আলোচনা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সমুদ্রপথ নিয়েও কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফর শেষে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। 

মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে বিগ-বি উদ্যোগে ভারত, নেপাল ও ভুটানকে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের সঙ্গে আলোচনায় শুরু থেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতেও তৃতীয় কোনো দেশের প্রসঙ্গ নেই।

তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশকে নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও আলোচনায় থাকতে হবে। তাদের সঙ্গে বসেই এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জাপানের সঙ্গে এবারের আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশকে যুক্ত করার প্রসঙ্গ আসেনি।

বিগ-বি উদ্যোগের বিষয়ে যৌথ বিবৃতির অবস্থান তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, সেখানে এটিকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের বাইরে অন্য কোনো দেশকে নিয়ে আলোচনা হয়নি।

বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা ও সমুদ্রপথ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এ ধরনের আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের উপস্থিতি প্রয়োজন।

বিগ-বি ও মাতারবাড়ি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। দলটির কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ ও বক্তব্য প্রত্যাশা করেন তিনি।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বুঝতে জাপান সফরের যৌথ বিবৃতি পড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যৌথ বিবৃতি পড়লেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। না দেখে, না বুঝে বা না পড়ে দেশ বিক্রি হয়ে যাওয়ার মতো মন্তব্য করা ঠিক নয়।

জাপানের সঙ্গে পাঁচ বছরে ৬৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এবং ঋণের সুদের হার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর আগের মতো ঋণ, অনুদান ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না। বরং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রকৃত বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগে বাংলাদেশ ঋণ, সহজ শর্তের ঋণ ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগ হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে কোনো পক্ষই অন্য পক্ষের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

জাপানের ঋণের সুদের হার প্রায় ৩ শতাংশে পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর তুলনায় বেশি সুদে জাপানের ঋণ নেওয়া হবে কি না। জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ৬৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির বড় অংশই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। কোন বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য উপযোগী, তা আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বিকল্পগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে—এমন বিনিয়োগই গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাছাইয়ের সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

জাপান সফরে রোহিঙ্গা সংকট ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সব পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে সরকার।


তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাপান সহযোগিতা করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। তবে সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারের হাতে। দেশটিকে আলোচনায় আসতে হবে এবং সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশের একার পক্ষে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে বিগ-বি উদ্যোগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। 

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   জাপান  বাংলাদেশ  আলোচনা  তৃতীয় দেশ  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: