মো. ফাহিম, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
হামলার শিকার বৃদ্ধ দম্পতি কাদের বেপারী (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫০) । ছবি : সময়ের আলো ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় পুকুরের মাছের খাদ্য হাঁস খেয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধ ও তার স্ত্রীকে কয়েক দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর তোফাজ্জল গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। এতে কাদের বেপারী (৬৫) ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫০) আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের হাঁস নিয়ে যাওয়া, মারধর ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কাদের বেপারীর অভিযোগ, গত ২১ অক্টোবর সকালে প্রতিবেশী নাসিমের স্ত্রী ছখিনা ও মাকসুদের স্ত্রী রূপা বেগম তাদের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে মারধর করেন। এ সময় তাকে হাতে কামড় দিয়ে আহত করা হয়। ঘটনার সময় কাদের বেপারী বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয় লোকজন তার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
কাদের বেপারী আরও অভিযোগ করেন, গত ২৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাহাঙ্গীর, নাসিম, আবুল কাশেম পরান, চান মিয়া পাটওয়ারী, ছখিনা, মাহিনুর, রিমা, মিতু, শাহজল কারবারি ও রূপা বেগমসহ ১০ থেকে ১২ জন তাদের বাড়িতে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। পরে হামলাকারীরা বাড়ির উঠানে জাল দিয়ে ঘেরা জায়গা থেকে ৩০টি হাঁস নিয়ে যান বলে তার অভিযোগ।
এ ঘটনায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ -এ ফোন করেন। পরে দুলারহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোবিন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কাদের বেপারীর ভাষ্য, গত ২৯ অক্টোবর অভিযুক্ত পক্ষের শাহজল কারবারি পাঁচজন মুসল্লিকে সঙ্গে নিয়ে হাঁস ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে অভিযুক্তদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রুহুল আমিন ফরাজী জানান, শাহজল কারবারির মাধ্যমে হাঁস ফেরত দেওয়ার কথা বলে কাদের বেপারীকে ছিডার বাপের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে হাঁস ফেরত না দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রুহুল আমিন।
কাদের বেপারী জানান, এর আগে গত বৃহস্পতিবার মসজিদের মুসল্লি রুহুল আমিন ফরাজীসহ চার-পাঁচজন তাদের বাড়িতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দেন। হাঁস ফেরত দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কোনো মারামারি হবে না বলেও তারা আশ্বস্ত করেন। পরে শাহজল কারবারি তাকে ছিডার বাপের বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানে জাহাঙ্গীর, নাসিম ও আবুল কাশেম পরানসহ চার-পাঁচজন তাকে মারধর করেন। এ সময় রুহুল আমিন ফরাজী বাধা দিতে গেলে তিনিও আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নাসিম বলেন, তার ভাই দুলালের পুকুরের মাছের খাদ্য কাদের বেপারীর হাঁসে খাওয়ায় তারা হাঁস নিয়ে এসেছেন। তবে ৩০টি নয়, ১২টি হাঁস নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মারধর ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন নাসিম।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারকে পুলিশ আইনি সহায়তা দেবে।’
সময়ের আলো/এসকে