সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় এবারও ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়নি

কাজী শহিদুল হক রাজু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশ

জলাবদ্ধতার কারণে চলতি মৌসুমেও সাতক্ষীরার সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা যায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ২৫

2026-10-30T21:56:20+00:00
2026-10-30T22:02:51+00:00
 
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় এবারও ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়নি
কাজী শহিদুল হক রাজু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম  আপডেট: ৩০.১০.২০২৬ ১০:০২ পিএম
জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ করতে না পারা জমি। ছবি : সময়ের আলো
জলাবদ্ধতার কারণে চলতি মৌসুমেও সাতক্ষীরার সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা যায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় একদিকে কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার পাঁচটি উপজেলায় ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর কৃষিজমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর, তালায় ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৪৫০ হেক্টর এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি রয়েছে।

পরিবেশ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতার সংকট আরও জটিল হচ্ছে। এতে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্রমেই চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জেলার অন্যতম ফসলি বিল তালা উপজেলার শাকদাহ। বিলটির বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। সেখানকার কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তারা আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ এক দশক আগেও তাদের জমিতে প্রচুর আমন ধান উৎপাদিত হতো।

বর্তমানে শাকদাহ বিলের হাজার হাজার কৃষক আমন চাষ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বছরে শুধু বোরো ধান চাষ করা ছাড়া অন্য কোনো ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় গবাদিপশুর সংখ্যাও কমছে। বিলের উন্মুক্ত চারণভূমি পানিতে ডুবে থাকায় গরু, ছাগল ও মহিষ পালনের সুযোগ কমে এসেছে বলে জানান তারা।


কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক অধ্যক্ষ আশেক এলাহী বলেন, ‘সাতক্ষীরার দুর্যোগ পরিস্থিতি এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন, বসতবাড়ি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।’

তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে নদী ও খাল পুনঃখনন জরুরি। বিলের ভেতরে থাকা সরকারি খালগুলো সাধারণ কৃষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব খাল দখল করে রাখায় বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘সাতক্ষীরার অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনজীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। আমন ধান এ অঞ্চলের কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমি ফসল। কিন্তু জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সময়মতো চারা রোপণ ও চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘এতে কৃষকেরা শুধু একটি মৌসুমের উৎপাদন থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন না, তাদের বীজ, সার, শ্রম ও জমি প্রস্তুতের ব্যয়ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।’

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণ নির্ধারণে এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও নিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় উপযোগী ফসলের জাত, বিকল্প চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা জোরদার করতে হবে।’

এ ছাড়া নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গবাদিপশু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

সময়ের আলো/এসকে
  বিষয়:   সাতক্ষীরা  জলাবদ্ধতা  হেক্টর  জমি  আমন চাষ  হয়নি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: