চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। ছবি : সময়ের আলোচট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই বোর্ডটিতে পাসের হার সর্বনিম্ন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল মান্নান।
বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ২৬৯ জন।
ফল প্রকাশের পর অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, গত বছরের কাছাকাছি রয়েছে এবার পাসের হার। এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং একই পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। মূল্যায়ন যথাযথ হওয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ছিল। ফলে শুরুর দিকের দু-একটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করতে পারে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কয়েক দিন পরীক্ষা বন্ধ ছিল। বিরতির পর আবার পড়াশোনায় ফিরতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা সময় লেগে থাকতে পারে। এটিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।
বোর্ড সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, ২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এবারই শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে। করোনা মহামারিসহ নানা কারণে নতুন কারিকুলামে পাঠদান শেষ করতে হয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত কারণ দ্রুত খুঁজে বের করবে শিক্ষা বোর্ড। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কয়েকটি পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে নিতে হয়েছে। ফলাফলে এর কী প্রভাব পড়েছে, তা-ও গবেষণা করে দেখা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এবার চট্টগ্রাম নগরীতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। নগরীর বাইরে জেলার অন্যান্য এলাকায় এ হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ ছাড়া কক্সবাজারে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সময়ের আলো/জোই