ইসরায়েলে ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক। ছবি : সংগৃহীত ইসরায়েলে ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবিতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে বিরোধী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অনীহা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ইহুদি বিরোধী নেতা। এমন পরিস্থিতিতে আরব নাগরিকদের ভোটের মূল্য সমান এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের পূর্ণ অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের সংগঠনের আয়োজনে শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ার, জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার, বেয়ারশেবা, হাইফা ও তাইবেতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে বিরোধী জোট ৬৭টি এবং ক্ষমতাসীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। তবে বিরোধী জোটের ৬৭ আসনের মধ্যে ইহুদি-ইসরায়েলি জাতীয়তাবাদী বা জায়নিস্ট দলগুলোর আসন ৪৮টি। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল—ইউসেফ জাবারিনের জয়েন্ট লিস্ট এবং মনসুর আব্বাসের রা’আম। এর আগে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর বেশির ভাগ নেতা এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
বিক্ষোভের আয়োজকেরা বলেছেন, পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়া ইহুদি-আরব সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিফলন পরবর্তী সরকারেও থাকতে হবে। তাদের ভাষ্য, এখন অংশীদারত্ব থেকে সরে যাওয়ার সময় নয়; বরং একে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার সময়। আরব ও ইহুদি নাগরিকদের ভোটের মূল্য সমান এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে আরব নাগরিকদের পূর্ণ অংশীদার হতে হবে।
শুক্রবার রাতে দ্য ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের প্রয়োজন নেই; বিরোধী দলগুলোই সরকার গঠন করতে পারে এবং তাদের তা করা উচিত। তার দলের পাশাপাশি গাদি আইজেনকটের ইয়াশার ও নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াহাদ—এই দলগুলোর আসন ৪৮। রা’আমের সমর্থন পেলে আসনসংখ্যা হবে ৫৬; জয়েন্ট লিস্টের রয়েছে আরও ১১টি আসন।
গোলান জানান, বৃহস্পতিবার ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াহাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়ার লাপিদ এবং রা’আমের প্রধান মনসুর আব্বাসের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সরকার গঠনের বিষয়ে তাদের তিনজনকেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনে হয়েছে।
তবে ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব নেতৃত্বাধীন দল দুটিকে নিয়ে কোনো জোট সরকারে যোগ না দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের সঙ্গে বসব না।’ নেতানিয়াহুর সঙ্গেও সরকার গঠনে রাজি নন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে দেশটির আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর দল সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল মিত্রদের বাইরে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের স্পষ্ট কোনো পথ তার সামনে নেই।
ইসরায়েলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী আরব আইনপ্রণেতাদের সরকারে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছেন নেতানিয়াহু। তবে অতীতে তার জোটের সঙ্গে রা’আমের যোগাযোগের খবরও এসেছে। দলটির নেতা মনসুর আব্বাস জানিয়েছেন, শুধু পরিবর্তনপন্থী জোট নয়, নেতানিয়াহুর পক্ষের লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
এদিকে, জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বুধবার বিরোধী দলগুলোর বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালনও শুক্রবার ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোকে রা’আমের সঙ্গে সরকার গঠন এবং আব্বাসকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জেডি