প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমার তোয়াক্কা না করে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী বাসিজকে সক্রিয় করার ওপর জোর দিচ্ছে ইরান।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সারদার আতাস জানান, জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের পর খামেনি সামরিক বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো হামলা শুরু করলে ইরানের পাল্টা জবাব হবে শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক ও কার্যকর। সেই জবাবের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাও থাকবে না।
ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আগের দফাগুলোতে যেসব স্থানে হামলা চালানো হয়েছিল, তার বাইরেও অভিযান বিস্তৃত করতে পারে ইরান। খামেনির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ আবার শুরু হলে কখন এবং কী শর্তে তা শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান। অর্থাৎ কূটনৈতিক আলোচনার শর্ত নির্ধারণেও ইরান নিজের অবস্থানকে প্রাধান্য দিতে চায়।
খামেনি চলমান সংঘাতকে ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্যে, সেই সময়ের শত্রু ও হুমকিগুলো এখনো বিদ্যমান।
দেশের জনগণকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একযোগে সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত করার কথাও বলেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইরানের এই আধাসামরিক বাহিনী মূলত দেশের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজে দায়িত্ব পালন করে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান শুধু বাইরে থেকে আসা সামরিক হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের ভেতরের বিরোধী শক্তি বা সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনাও করছে।
সময়ের আলো/জেডি