প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০১ এএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে ঐক্য জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্বের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এমন সাংবিধানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশে আর স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার উদ্ভব না ঘটে। এ জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, যাতে সংস্কারগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়।
গণতন্ত্র সুরক্ষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
দেশের সাংবিধানিক ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তার মতে, এর মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম মূল কারণ। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়। ওই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনি ব্যবস্থা ও গণভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। এসব বিষয়ে বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সময়ের আলো/জেডি