নবীজি সা.-এর পূর্বপুরুষরা কি ইয়েমেন থেকে এসেছিলেন?

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

নবীজি (সা.)-এর পূর্বপুরুষ কি ইয়েমেন থেকে এসেছিলেন? তার বংশধারায় কি ইয়েমেনের কোনো গোত্রের রক্তের সংযোগ রয়েছে? ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইসমাইল

2026-11-02T20:33:04+00:00
2026-11-02T20:33:04+00:00
 
  সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
ইসলাম
নবীজি সা.-এর পূর্বপুরুষরা কি ইয়েমেন থেকে এসেছিলেন?
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
নবীজি (সা.)-এর পূর্বপুরুষ কি ইয়েমেন থেকে এসেছিলেন? তার বংশধারায় কি ইয়েমেনের কোনো গোত্রের রক্তের সংযোগ রয়েছে? ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মক্কায় বেড়ে ওঠা এবং ইয়েমেন থেকে আসা জুরহুম গোত্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের ঘটনা এ প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। তবে বিষয়টি বুঝতে হলে ইসমাইল (আ.)-এর জীবন, বিয়ে এবং তার বংশধারার ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলাতে হবে।

ইসলামি ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে মক্কার জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে যান। তখন সেখানে ছিল না জনবসতি ও পানির কোনো উৎস। পরে আল্লাহ তায়ালার রহমতে সেখানে জমজম কূপের পানির সন্ধান মেলে। এই পানিকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে ওই সেখানে মানুষের বসতি গড়ে উঠতে শুরু করে।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ইয়েমেন থেকে আসা জুরহুম গোত্রের একটি দল ওই উপত্যকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তাদের তৃষ্ণা পায়। তারা পানির সন্ধান করে। অতঃপর যখন তারা সন্ধান পায়, হাজেরা (আ.)-এর অনুমতি নিয়ে তারা সেখানে বসতি স্থাপন করে। বুখারিতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মক্কায় হাজেরা (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর বসতি স্থাপনের এই ঘটনা বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।


জুরহুম গোত্রের লোকেরা ছিল আরবিভাষী। তাদের সঙ্গে বসবাস করতে করতেই ইসমাইল (আ.) আরবি ভাষা শেখেন। বিখ্যাত সীরাতগ্রন্থ ‘আর-রাহিকুল মাখতুম’-এও তার জুরহুম গোত্রের মধ্যে বেড়ে ওঠা এবং তাদের কাছ থেকে বিশুদ্ধ আরবি শেখার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইসলামি ঐতিহ্যে তাকে আরবায়িত আরব বা ‘আরবুল মুস্তারিবা’দের পূর্বপুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দিন গড়িয়ে সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে বছর। ধীরে ধীরে ইসমাইল (আ.) বড় হতে লাগলেন। যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলেন, তখন জুরহুম গোত্রের একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। সীরাতের বিভিন্ন গ্রন্থে ইসমাইল (আ.)-এর দুটি বিয়ের কথা পাওয়া যায়। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর তিনি জুরহুম গোত্রের প্রধান মুদাদ ইবনে আমরের মেয়েকে বিয়ে করেন। বংশতাত্ত্বিক বর্ণনা অনুযায়ী, এই দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভেই তার সন্তানদের জন্ম হয়। ফলে ইসমাইল (আ.)-এর বংশধারার সঙ্গে জুরহুম গোত্রের বৈবাহিক ও মাতৃসূত্রীয় সম্পর্ক তৈরি হয়।

ইসলামি বংশতালিকা অনুযায়ী, ইসমাইল (আ.)-এর বংশধারার মধ্য দিয়ে পরবর্তী সময়ে আদনানি আরবদের বিস্তার ঘটে। এই ধারার সঙ্গে যুক্ত হন আদনান, এরপর কুরাইশ গোত্র এবং বনু হাশিম। এই বনু হাশিমেই জন্মগ্রহণ করেন আমাদের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)। তবে ইসমাইল (আ.) থেকে আদনান পর্যন্ত মধ্যবর্তী প্রজন্মগুলোর বংশতালিকা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

তাহলে কি নবীজি (সা.)-এর রক্তে ইয়েমেনি বংশধারা ছিল? ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে বলা যায়, তার পূর্বপুরুষের বংশধারায় জুরহুম গোত্রের মাতৃসূত্রীয় সংযোগের কথা প্রচলিত রয়েছে। তবে এটিকে নবীজির সরাসরি মাতৃকুলের পরিচয় মনে করা ঠিক হবে না। তার মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব ছিলেন কুরাইশের বনু যুহরা গোত্রের নারী।


অর্থাৎ, নবীজি (সা.)-এর বংশধারার সঙ্গে ইয়েমেনি উৎসের জুরহুম গোত্রের একটি প্রাচীন বৈবাহিক সম্পর্কের সূত্র পাওয়া যায় ইসলামি ঐতিহাসিক বর্ণনায়। তবে ইসমাইল (আ.) থেকে নবীজি (সা.) পর্যন্ত প্রতিটি প্রজন্মের পূর্ণাঙ্গ বংশতালিকা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই ইয়েমেনের সঙ্গে এই সম্পর্ককে সরাসরি ও অকাট্য রক্তসম্পর্কের দাবি হিসেবে নয়, বরং ইসলামি ইতিহাসে সংরক্ষিত একটি বংশতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিসংগত।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   নবীজি সা.  পূর্বপুরুষ  ইসলাম  ইসলামি ইতিহাস  ইয়েমেন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: