প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে সংলাপ ও আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলি বাঘেরির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওয়াং ই বলেন, সংঘাতের অবসানে সংলাপ ও আলোচনাই একমাত্র পথ। সব পক্ষের উচিত নিজেদের জনগণ ও ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা। নতুন করে শক্তি প্রয়োগের পথে না গিয়ে অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত মনোভাব নিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেওয়া উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহও জানান ওয়াং ই। একই সঙ্গে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা অস্থিরতা থাকলেও বেইজিং ও তেহরানের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। দুই দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি এ সম্পর্ক আরও ঐক্য ও সহযোগিতার বিষয়ে গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের আকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
বৈঠকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান ওয়াং ই। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অন্যদিকে, আলি বাঘেরি বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকে ‘ভুলে যাওয়ার মতো নয় এমন অপরাধ’ বলে বর্ণনা করেন বাঘেরি। এসব কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও সম্প্রসারণবাদী নীতির পরিণতি নিয়ে সতর্ক করেন ইরানের এই কর্মকর্তা। তাঁর মতে, কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এ ধরনের সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও বিপর্যস্ত করে তুলবে।
সময়ের আলো/এসএকে