প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০২ পিএম
ডিএনএ সিকোয়েন্সের মধ্যে সাদৃশ্য দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে শনাক্ত করতে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (জিইউআই) ভিত্তিক ডেস্কটপ সফটওয়্যার তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরা। সফটওয়্যারটির উন্নয়ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিনা মূল্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিস ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগ।
বিভাগের প্রধান মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। এ ছাড়া অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও প্রধান উপস্থাপক হিসেবে সফটওয়্যারটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ডিএনএ সিকোয়েন্সের মধ্যে সাদৃশ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহারবান্ধব এই ডেস্কটপ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। জীববিজ্ঞান, বায়োইনফরমেটিক্স, জিনোমিক্স ও কম্পিউটেশনাল বায়োলজির গবেষণায় ডিএনএ সিকোয়েন্সের তুলনা ও বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পে অ্যালাইনমেন্ট-মুক্ত উন্নত অ্যালগরিদম ও সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এটি দ্রুত ও সহজে ফলাফল দিতে সক্ষম।
এই সফটওয়্যার দেশের বায়োইনফরমেটিক্স গবেষণা, ডিএনএ সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ এবং জীববৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সফটওয়্যার উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল মজিদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় তৈরি সফটওয়্যারটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে তাঁরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এটি ব্যবহার, পরিমার্জন ও হালনাগাদ করতে পারবেন। সফটওয়্যারটির ব্যবহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলেই এর প্রকৃত সাফল্য আসবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সফটওয়্যারটির জন্য পেটেন্ট অর্জনের চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবনী অনুদানের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।
সময়ের আলো/জোই