প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ১০:১৪ পিএম
গ্রেফতার এ টি এম শামসুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত দিনাজপুরের বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোটোভাই মুকুল হোসেনকে (৩৫) হত্যার মামলায় বড়োভাই এ টি এম শামসুজ্জামানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত একটার দিকে রংপুরের পাগলাপীর নামক এলাকার উত্তম স্কুল অ্যান্ড কলেজ মোড়ে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ টি এম শামসুজ্জামান বিরামপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কৃষ্টচাঁদপুর মহল্লার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। হত্যাকাণ্ড ও মামলার পর থেকে তিনি এলাকায় পলাতক ছিলেন।
নিহত মুকুল হোসেন পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মুকুল হোসেনের স্ত্রী মাহামুদা বেগম (৩২) বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই বিরামপুর থানায় মুকুলের বড়ো ভাই এ টি এম শামসুজ্জামান, দেলোয়ার হোসেন, বড়ো বোন নূরছাপা বেগম, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে দিনার হোসেন ও প্রতিবেশী নাহিদ হোসেনসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে, ওইদিন রাতেই মুকুলের বড়োবোন নূরছাপা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক জমি নিয়ে মুকুল হোসেনের সঙ্গে তার বড়োভাই এ টি এম শামসুজ্জামানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। গত ৪ অক্টোবর দুপুরে বাড়ির পাশে মুকুলের ধানের জমিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিফিনের উচ্ছিষ্ট, ছেঁড়া কাগজ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলেন এ টি এম শামসুজ্জামান।
এ নিয়ে গত ৫ অক্টোবর মুকুল ও শামসুজ্জামানের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার জেরে ওইদিন রাত ৮টার দিকে পুনরায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে মুকুলের বড়োভাই দেলোয়ার হোসেন, এ টি এম শামসুজ্জামানসহ অপর আসামিরা লাঠি দিয়ে মুকুলের মাথা, বুকে ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে মুকুল ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। এ সময় তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে মুকুল হোসেনের মৃত্যু হয়।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, মুকুল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি এ টি এম শামসুজ্জামানকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিকে মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনে রয়েছেন।
সময়ের আলো/এনএন