বরগুনার তালতলীতে সরকারি অর্থায়নে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রায় দেড় কোটি টাকার এই প্রকল্পে নামে মাত্র ব্যয় করে হরিলুট চালিয়েছেন পাউবোর এবং ঠিকাদাররা। নিন্মমানের কাজের কারণে বাঁধ ধসে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে মরণ ফাঁকের মতো ভয়ংকর ফাটল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর প্রথম দিন থেকেই তারা এই নিম্নমানের কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু বা পাথরের পরিবর্তে নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে ডাম্পিং করা হয়। এখানেই শেষ নয়; ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে খোদ বেড়িবাঁধসংলগ্ন নদীর তীর থেকেই মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করায় মাত্র দেড় মাসেই তা হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বেড়িবাঁধ প্রকল্পে হরিলুটের এই মহোৎসবের ফলে বর্তমানে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষের বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাউবোর অসৎ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদাররা প্রতি বছরই এই হরিলুট চালায়। সরকারি টাকা পকেটে পুরে তারা আজ আমাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে পায়রার সর্বনাশা পানি লোকালয়ে ঢুকে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মাছের ঘের চিরতরে গ্রাস করে নিতে পারে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় ৫টি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ পায় মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স। ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কাজ গত ২১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানেত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মনি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন সব দায় নদীর মোহনার ওপর চাপিয়ে দেন। এবং মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল নামমাত্র দায় স্বীকার করে এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারের কথা জানিয়েছেন।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় জিও ব্যাগে কাজ হচ্ছে না এবং টেকসই কাজের জন্য ইতোমধ্যে ডিপিপি পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা