মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা

2026-11-04T13:38:37+00:00
2026-11-04T13:38:37+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল
মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৮ পিএম 
ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।

বুধবার (৪ নভেম্বর) মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

গ্রেপ্তারের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানতে চাইলে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান চলমান থাকায় এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তবে কাউকে আটকের পর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ শ্রমিক ও পথচারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

মিরপুরের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরেছেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মহিদুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। এসব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অস্থিতিশীলতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।


শ্রমিকদের উদ্দেশে এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। কারখানায় আগুন দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে। প্রকৃত শ্রমিকেরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন না। তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অপরাধীরা যতই শক্তিশালী হোক, তাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। 

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   মিরপুর  পুলিশ মোতায়েন  ডিএমপি  যুগ্ম পুলিশ কমিশনার 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: