প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি : সংগৃহীতবিএনপি নিজেরাই সহিংসতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে সরকার দলীয় বাহিনী ও পুলিশকে ব্যবহার করছে। বিএনপির লোকজন হকিস্টিক ও স্টাম্প নিয়ে শ্রমিকদের পেটাতে রাস্তায় নেমেছে। তাদের এই দায়িত্ব কে দিয়েছে?
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের গায়েবানা জানাজায় পুলিশের লাঠিচার্জে আহত শ্রমিকনেতাদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নিহত তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তারা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এতে নারীসহ মোট ১৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন ন্যায্য ও যৌক্তিক। কিন্তু সরকার তাদের দাবিতে কর্ণপাত না করে বল প্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে। সরকার দলীয় নিপীড়ন চলছে। পুলিশ শ্রমিক কলোনিতে ঢুকে তাদের খুঁজছে, গ্রেফতার করছে এবং মামলা দিচ্ছে। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে শ্রমিক আন্দোলন দমনে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো, এখনো একই কায়দায় শ্রমিকদের দমন করা হচ্ছে। শুরু থেকেই সমঝোতার উদ্যোগ না নিয়ে সহিংস পথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করায় আন্দোলন এ পর্যায়ে এসেছে।
মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলে তিনি আরও বলেন, তিন দিন আগে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এত দিন কোনো সভা হয়নি। বুধবারই প্রথম সভা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অবহেলা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি শ্রমিক আন্দোলনই নয়। বিএনপি আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেকোনো আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হতো। এখন বিএনপি সব আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশের শত্রু। তারা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর বিএনপি সেই সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্নে বিএনপি আপস করেছে এবং ঐকমত্য ভঙ্গ করেছে। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘টালবাহানা না করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন। মজুরি বোর্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। শ্রমিকরা এতে আস্থা রাখতে পারছেন না। শ্রমিকদের বলব, আপনারা সতর্ক থাকবেন। আমরা আপনাদের পক্ষে আছি। আওয়ামী লীগ এই আন্দোলনের মধ্যে ষড়যন্ত্র করবে। আর বিএনপি আপনাদের দমন করার চেষ্টা করবে।’
সময়ের আলো/কেএইচও