স্বপ্ন সম্প্রীতি প্রত্যাশার মেলবন্ধন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

আট বছর পর ঘরের মাঠে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই— সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে শিরোপার অপেক্ষা প্রায় দুই

2026-11-05T04:03:26+00:00
2026-11-05T04:03:26+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
খেলা
স্বপ্ন সম্প্রীতি প্রত্যাশার মেলবন্ধন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ এএম 
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ঘরের মাঠে আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ম্যাচ জেতার পাশাপাশি শিরোপায় চোখ রাখছেন টমাস ডুলির শিষ্যরা। ছবি : বাফুফে
আট বছর পর ঘরের মাঠে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই— সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে শিরোপার অপেক্ষা প্রায় দুই যুগের। ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্নে নতুন করে বুক বাঁধছে বাংলাদেশ। হামজাদের সামনে ইতিহাস বদলের হাতছানি। তবে এই মঞ্চে প্রত্যেকেরই আলাদা স্বপ্ন। কেউ চায় মুকুট ধরে রাখতে, কেউ নতুন ইতিহাস লিখতে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানও মাঠের লড়াইয়ের আগে ছড়িয়েছে সম্প্রীতির সুবাস।

আজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। একই দিন রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কোচ ও অধিনায়করা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এলেও পূর্ণশক্তির দল নিয়ে আসতে পারেনি ভারত। কোচ নওশাদ মুসা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং ভারতে চলমান ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) কারণে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে পাননি তিনি। তবে সাফকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত, এমন ধারণা ঠিক নয় বলে দাবি তার। জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দল সাজিয়েছেন। শিরোপা ধরে রাখার চাপের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই কোচ।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরের সৌহার্দের বার্তাও এসেছে দুদলের সংবাদ সম্মেলনে। সাম্প্রতিক দুই দেশের খেলোয়াড়দের হাত না মেলানো কিংবা জার্সি বিনিময় না করার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের কোচ নওশাদ মুসা ও অধিনায়ক নাতান রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে বা জার্সি বিনিময়ে তাদের আপত্তি নেই। কোচ মজা করে বলেছেন, প্রয়োজনে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরতেও রাজি তার দলের ফুটবলাররা।

পাকিস্তানের কোচ নলবার্তো সোলানো নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট। অধিনায়ক আলমগীর গাজীর কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাস। ভারতের দল তরুণ হলেও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। পাকিস্তানও পূর্ণশক্তির দল নিয়ে আসতে পারেনি। তবে সেটিকে অজুহাত করতে চান না অধিনায়ক। ভারতের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের প্রত্যাশা তার। বাংলাদেশের দর্শকদের কাছ থেকেও সমর্থন আশা করছেন আলমগীর। ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে তার বিশ্বাস, ভারত ম্যাচেও বাংলাদেশের দর্শকরা পাকিস্তানের পাশে থাকবেন। ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘এটি ক্রিকেট নয়, ফুটবল। আর এ কারণেই খেলাটি সুন্দর।’


শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য সাফের সীমানা ছাড়িয়ে আরও দূরে। প্রায় এক বছর আগে থেকেই ২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন দলটির কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরি। গত জুনে ভুটানের বিপক্ষে একটি এবং সেপ্টেম্বরে সেশেলস ও মরিশাসের বিপক্ষে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে দলটি। কোচের দাবি, ‘খেলোয়াড়রা প্রস্তুত। তবে দুই ফুটবলারের এসিএল চোটে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে।’

শ্রীলঙ্কার দলে প্রায় ১৮-১৯ জন প্রবাসী ফুটবলার রয়েছেন। কোচের মতে, কোন দেশের লিগে বা কোন পর্যায়ে খেলছেন, সেটি মুখ্য নয়; শ্রীলঙ্কার রক্ত থাকলে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সাফে নিজেদের ফেবারিট বলতে নারাজ তিনি। বরং ঘরের মাঠ, দর্শক ও সমর্থনের কারণে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছেন। হামজা চৌধুরীর পাশাপাশি ফারহান আলী ওয়াহিদ ও শামিত সোমের প্রশংসাও করেছেন। ফারহানকে নিজের প্রিয় খেলোয়াড় উল্লেখ করে তার বিশ্বাস, আগামী ১০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠবেন এই তরুণ। যতই লঙ্কান কোচ নিজেদের ফেবারিট দাবি না করুক সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে তাদের ডার্ক হর্স বললেও ভুল হবে না। সাফে ভালো করার প্রত্যাশা থাকলেও শ্রীলঙ্কার মূল লক্ষ্য ২০৩২ এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়া। অন্যদিকে ঘরের মাঠে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুত বাংলাদেশ। কোচ টমাস ডুলি জানিয়েছেন, চলতি বছরের মে মাস থেকেই সাফ সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। প্রস্তুতির পথে কিছু উত্থান-পতন থাকলেও দলের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। অধিনায়ক তপু বর্মণও আট বছর পর দেশের মাটিতে সাফ আয়োজনকে বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। নিজেদের সেরাটা দিয়ে সমর্থকদের আনন্দ দিতে চান তারা।

ভুটানের কোচ গ্যারি ফিলিপসও স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচটিকে কঠিন হিসেবে দেখছেন। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ না খেললেও তরুণদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। অধিনায়ক চেনচো গিয়েলশেন জানিয়েছেন, হামজার মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেলে তারা খুশি হতেন। তবে প্রথম ম্যাচে তাকে না পেলেও জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করতে চায় ভুটান।

সব মিলিয়ে একেক দলের স্বপ্ন একেক রকম। ভারতের লক্ষ্য শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা, শ্রীলঙ্কার চোখ ভবিষ্যতের এশিয়ান কাপে, আর পাকিস্তান ও ভুটান চায় নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে ঘরের মাঠে দীর্ঘ শিরোপা-আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   স্বপ্ন  সম্প্রীতি  প্রত্যাশা  মেলবন্ধন 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: