প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৮ এএম
তাসকিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীতমিরপুর টেস্টে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার সিলেটে আরেকটি জয় পেলেই নিশ্চিত হবে সিরিজ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ক্যারিবীয়দের সামনে তাই দেশের বাইরে সিরিজ জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচাতে হলে সিলেটে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।
মিরপুরে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই হতাশ করা দলটির জন্য এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা। বিশেষ করে নিজেদের চেনা শক্তি স্পিনে ব্যর্থ হওয়ার পর সিলেটের কন্ডিশনে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে স্বাগতিকদের।
মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন স্পিনাররা। দুই ইনিংস মিলিয়ে জোমেল ওয়ারিকান ও অধিনায়ক রস্টন চেজ নিয়েছেন ১৪ উইকেট। অভিষিক্ত জশুয়া বিশপ উইকেটের সংখ্যায় খুব বেশি এগিয়ে না থাকলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন। ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন ক্যারিবীয়রা। প্রথম ইনিংসে জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারাইন চন্দরপল করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি। যদিও ২৪৫ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে ২৭ রানের লিড দিয়েছিল তারা। তবে চতুর্থ ইনিংসে ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসে ১৭০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার বড় জায়গা ব্যাটিং। মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ভালো শুরুর পরও বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। সাদমান ইসলাম করেছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। কিন্তু অন্যদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় সেই ইনিংসের সুফল কাজে লাগানো যায়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে তো আরও বড় ধস নামে। আট নম্বরে নেমে নাঈম হাসান ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি কেউ। নাঈমের ফিফটির পরও বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪২ রানে। এমন ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন।
সিলেটে তাই ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। এই মাঠে তার দুটি টেস্ট সেঞ্চুরি আছে। কিন্তু মিরপুরে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে করেছেন মাত্র ১৯ ও ১০ রান। অধিনায়কের কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকবে দলের। পাশাপাশি চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ফেরাও ব্যাটিংয়ে বাড়তি ভরসা জোগাতে পারে বাংলাদেশকে।
স্পিন বোলিং নিয়েও ভাবতে হচ্ছে স্বাগতিকদের। মিরপুরে হারের পর অধিনায়ক শান্ত সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের বোলিং নিয়ে। বিশেষ করে দলের অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ব্যাটিংয়ে সাদমানের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ইনিংসে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার। সাধারণত উইকেটে সময় নিয়ে বোলারদের ভুলের অপেক্ষায় থাকেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও অতীতে ভালো করেছেন। তবে ক্যারিবীয় পেসারদের সামলাতে পারলেও স্পিনের বিপক্ষে তাকে বেশি পরীক্ষা দিতে হয়েছে। সিলেটে নতুন কন্ডিশনে সেই চ্যালেঞ্জও থাকবে। দুদলের একাদশেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ ফিল সিমন্স। তাইজুল ইসলাম একাদশের বাইরে থাকতে পারেন। প্রথম টেস্টে কনকাশনের কারণে মুমিনুল হক ছিটকে যাওয়ার পর তার জায়গায় খেলার সুযোগ পাওয়া মুশফিকুর রহিম ফিরছেন। ফলে ব্যাটিং লাইনআপে জায়গা করে দিতে তাওহীদ হৃদয় বা জাকের আলীর একজনকে বাইরে থাকতে হতে পারে।
তৃতীয় পেসারের জায়গা নিয়েও লড়াই হতে পারে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের মধ্যে। সিলেটের উইকেট পেসারদের সহায়ক হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশেও পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে কেমার রোচের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে