নীল ঢেউয়ে তলিয়ে গেল ট্রাম্পের লাল তরী

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের ঘুম ভাঙল বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায়। এতদিন দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছিল ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির হাতে।

2026-11-05T07:33:19+00:00
2026-11-05T07:38:34+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন
নীল ঢেউয়ে তলিয়ে গেল ট্রাম্পের লাল তরী
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৩ এএম  আপডেট: ০৫.১১.২০২৬ ৭:৩৮ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের ঘুম ভাঙল বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায়। এতদিন দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছিল ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির হাতে। কংগ্রেসই সারা দেশে আইন তৈরি ও পাস করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। 

এখন কংগ্রেসের দুই কক্ষ— প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে। কয়েক দশকের মধ্যে  প্রথমবারের মতো টেক্সাস ও কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতেও আসন ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি।

সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ উভয়েরই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। একের পর এক জয়ের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টিকে ধরাশয়ী করে দিয়েছে নীল শিবির। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও আসছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা আটকে দেওয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা পাবে দলটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শুল্ক ও ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনে। কারণ এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি মানুষের অসন্তোষ আরও বেড়েছে। নির্বাচনের ফল নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তোলার ইতিহাস থাকলেও এবার সমঝোতার সুরে কথা বলেছেন ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই এসব ফল মেনে নিতে প্রস্তুত।’ পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ‘কাজ করার’ প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তবে কয়েক মিনিট পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের আইন পাসের উদ্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করবেন, সেই ইঙ্গিতও দেন ৮০ বছর বয়সি ট্রাম্প। সেখানে তিনি ‘ভেটো’ লেখা একটি লাল বেসবল ক্যাপের ছবি পোস্ট করেন। সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের নির্ণায়ক সাফল্য আসে কানসাস ও আইওয়ায়। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা পঞ্চম ও ষষ্ঠ আসন হিসেবে এ দুটিতেও জয় পায় ডেমোক্র্যাটরা। সপ্তম আসন হিসেবে মেইনেও সুসান কলিনসকে হারিয়ে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি দখল করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন।


কানসাসে মেথডিস্ট ধর্মযাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান বর্তমান সেনেটর রজার মার্শালকে হারান। রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্য থেকে ১৯৩২ সালের পর তিনিই প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন। ২০০৮ সালের পর আর কোনো ডেমোক্র্যাট সেনেটর পায়নি আইওয়া। রিপাবলিকান অ্যাশলে হিনসনকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আসনটি এনে দিয়েছেন জশ টুরেক। দলটির এই অভাবনীয় সাফল্যকে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল ঢেউ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

এর আগে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে জয় পায় ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প সমর্থকদের এক করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালালেও এসব অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেন। টেক্সাসের ফল ছিল রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বিস্ময়। ট্রাম্প-সমর্থিত সিনেট প্রার্থী অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে দেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো। ১৯৯৪ সালের পর টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর হলেন টালারিকো।

একই সঙ্গে বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে নির্বাচিত হন জিনা হিনোজা। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ পদে কয়েক দশকের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণের অবসান হলো। সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৯৯৮ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে সিনেটর হয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার বোন ডারলিন গ্রাহামকে ওই আসনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচনে ডারলিনকে হারিয়ে অ্যান্ড্রুজের এই জয়কে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর হয়েছেন রয় কুপার ও শ্যারড ব্রাউন। তারা হারিয়েছেন রিপাবলিকান মাইকেল হোয়েটলি ও জন হাসটেডকে। নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিনেট আসনও ধরে রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে জর্জিয়ায় জন অসফের ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপ্পাসের আসন দুটিও রয়েছে।

সেনেটের ১০০টির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন। এর আগে সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল ৫৩-৪৭ ব্যবধানে। কয়েকটির ফল এখনও অমীমাংসিত থাকলেও সাতটি আসন বেড়ে যাওয়ায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতেই যাচ্ছে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে ৫৪টি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ৪৩৫টির মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে ২৩১টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোনো দলের প্রয়োজন ২১৮টি আসন।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   নীল ঢেউ  তলিয়ে গেল  ট্রাম্প  লাল তরী 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: