প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
গাজীপুর সাফারি পার্কের কোর সাফারি এলাকার বনের ভেতর তাদের দেখা মেলে। ছবি : সংগৃহীততগাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের পালে জন্ম নিয়েছে নতুন চারটি শাবক। মাস দেড়েক আগে হঠাৎ গাজীপুর সাফারি পার্কের কোর সাফারি এলাকার বনের ভেতর তাদের দেখা মেলে।
শাবকগুলোর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।
বর্তমানে নতুন জন্ম নেওয়া শাবকগুলো দিনভর মায়ের ছায়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বনজুড়ে। তবে মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই শাবকদের নিয়ে দৌড়ে বনের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছে মা নীলগাই।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান জানান, মাস দেড়েক আগে গাজীপুর সাফারি পার্কের কোর সাফারির হরিণ সাফারিতে নীলগাইয়ের সঙ্গে নতুন চারটি শাবককে বিচরণরত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। সর্বক্ষণ একজনকে তাদের দেখভালের জন্য হরিণ সাফারিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শাবকগুলোর বয়স দেড় মাসের মতো হবে। তবে শাবকগুলো মাদি না পুরুষ, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। নিরাপত্তার জন্য কাছাকাছি গিয়ে তা নির্ধারণের চেষ্টাও করেনি কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নীলগাই উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়। পরবর্তী সময়ে গাজীপুর সাফারি পার্কে বেশ কয়েকটি শাবকের জন্ম হয়। সবশেষ পার্কে ১১টি নীলগাই ছিল। এর মধ্যে দুটি নীলগাই কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পার্কে ৯টি নীলগাই রয়েছে। নতুন চারটি শাবকসহ বর্তমানে পার্কে নীলগাইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।
প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, নীলগাই বাংলাদেশের প্রকৃতিতে একসময় ছিল। শত বছর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে প্রচুর নীলগাই দেখা যেত। কিন্তু পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে ১৯৪০ সালের পর থেকে এ দেশের বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীটিকে আর দেখা যায়নি। তাই নীলগাইকে এ দেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
অ্যান্টিলোপ প্রজাতির মধ্যে নীলগাই হলো সবচেয়ে বড় প্রাণী। পুরুষ নীলগাইয়ের শিং থাকে। এদের গায়ের রং হয় কিছুটা কালচে। একই প্রজাতির স্ত্রী নীলগাইয়ের ক্ষেত্রে শিং থাকে না। স্ত্রী নীলগাইয়ের রং হয় কিছুটা বাদামি। স্ত্রী নীলগাই প্রাপ্তবয়স্ক হয় দুই বছরে। আর পুরুষ নীলগাই প্রাপ্তবয়স্ক হতে সময় নেয় পাঁচ বছর। এরা একসঙ্গে একটি থেকে তিনটি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর থেকে এদের নিরাপত্তা ও দেখভালের পুরো দায়িত্ব পালন করে মা নীলগাই।
সময়ের আলো/এনএন