প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবিটাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পৈতৃক সম্পত্তি ও বৈদ্যুতিক সেচমোটর বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাসরিন আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। গুরুতর আহত নাসরিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের কাগমারী ইছাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত নাসরিন ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম কালিহাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তার ভাই শাকের আহমেদ (৪০), সাব্বির আহম্মেদ (২০), মর্জিনা খাতুন (৩২) ও তোবাসহ (২০) কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি ও বৈদ্যুতিক সেচমোটর বণ্টন নিয়ে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শহিদুলের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বাইরে বের করে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে তাকে হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে নাসরিনের গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ও স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন শহিদুল।
স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শহিদুল ইসলামকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত নাসরিনকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে এলেঙ্গায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন তারা।
গত ৩ নভেম্বর সকালে এলেঙ্গার ভাড়া বাসা থেকে নিজেদের বাড়ি কাগমারী ইছাপুরে যান শহিদুল ও নাসরিন। ওই দিন বিকেলেই তাদের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/জোই