পাইকারি কেজিতে দুই টাকা বাড়লেও খুচরায় কেজিতে প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ছবি : সময়ের আলোজ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁয় প্রভাব পড়েছে ধান-চালের বাজারে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি কেজিতে দুই টাকা বাড়লেও খুচরায় কেজিতে প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে সুগন্ধি আতব চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান-চালের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সূত্রে জানা যায়, কেজিতে ৪ টাকা দাম বেড়ে বর্তমানে চালের দাম কাটারিভোগ ৮০-৮৫ টাকা, জিরাশাইল ৬৫-৭০ টাকা, সুফলতা ৬৫-৭০ টাকা, ব্রি-১৯ চাল ৫৫-৬০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬০-৬৫ এবং স্বর্না-৫ চাল ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরি হাটবার। এ হাটে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের দাম মণে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, জিরাশাইল ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা, সুফলতা ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং ব্রি-১৯ ধান ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২২০ টাকা মণ।
সবশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। যেখানে প্রতি লিটারে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় সবধরণের পণ্যের বাজার ঊর্ধ্বগতি। বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের সংসার চালাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিম্নআয়ের মানুষ। দ্রব্যমূল্যের চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। কারো সংসারে চাল, চাল আর আলুই ভরসা। বাজারে গিয়ে পরিমাণমতো কিনতে না পেরে অনেকে ফিরে আসছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও চাপে পড়েছেন।
শহরের সুলতানপুর মহল্লার রিকশা চালক আফসার আলী বলেন, চার সদস্যের পরিবার। এরমধ্যে ছোট দুই ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে। আর স্ত্রী সংসার সামলায়। সারা দিনে রিকশা চালিয়ে ৭০০-৮০০ টাকা আয় হয়। এরমধ্যে ৩৫০ টাকা রিকশার ভাড়া দিতে হয়। বাকি টাকা দিয়ে চাল, ডাল, মাছ ও সবজি কিনতে শেষ হয়ে যায়। আমাদের তো চাল, ডাল আর আলুই প্রধান ভরসা। সেখানে চালেরও দামও বেড়েছে। সবকিছুর দাম বেড়েছে। ডিমের দামও বেশি। আমরা আসলে খাবো কি?
আরজি-নওগাঁ মহল্লার দিনমজুর সমশের আলী। তিনিসহ অনেকে প্রতিদিন শহরের গোস্তহাটির মোড়ে সকালের কাজের সন্ধানে এসে বসে থাকেন। তিনি বলেন, পরিাবরের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। এরমধ্যে বাবা-ছেলে কাজ করি। ছেলে রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ী। আমাকে কাজের সন্ধানে প্রতিদিন এসে বসে থাকতে হয়। দিনমজুরি করে ৬০০ টাকা পাওয়া যায়। কোনোদিন কাজ হয়, আবার কোনোদিন কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। কিন্তু পেট তো আর বসে থাকবে না। যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, এতে করে আমাদের মতো গরীর মানুষরা বলা যায় ফাঁটা বাঁশের চিপায় পড়তে হচ্ছে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এতে ধান-চালের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। চালের দাম বৃদ্ধিতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই। কারণে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল রয়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০ ট্রাক চাল সরবরাহ হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। আগামীতে জ্বালানি তেলের দাম কমলে চালের দামও কমে আসবে।
সময়ের আলো/এনএন