গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার এক দশক পেরিয়ে গেছে। ছবি : সময়ের আলোগাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার এক দশক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও মামলার বিচার হয়নি, গ্রেফতার হননি কোনো আসামি। ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার পরিবারগুলোও পায়নি কোনো ক্ষতিপূরণ। দিনটিকে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আদিবাসী নেতা, অধিকারকর্মী ও স্থানীয় সংগঠকেরা। সমাবেশে বক্তারা বিচার, গ্রেফতার, ক্ষতিপূরণ ও জমি ফেরতের দাবি জানান।
সকালে জয়পুর গ্রামে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে নিহতদের স্মরণ করা হয়। এরপর মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে কালো পতাকা, ঐতিহ্যবাহী তীর-ধনুক, ব্যানার ও নানা দাবিসংবলিত ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেবগঞ্জের সমাবেশস্থলে গিয়ে মিলিত হয়। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি, গাইবান্ধা সদর উপজেলা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা খোকন সুইটেন মুরমু ও আরতি ফালকো এবং সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান ময়নুল এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদের মার্টিন মুরমু, তিতাস মার্ডি ও ওমর ফারুকসহ অন্যরা।
বক্তারা ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরের ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও তার কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সেদিনের হামলায় আহত ব্যক্তিদের অনেকে উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন। কারও শরীরে এখনো গুলির স্প্লিন্টার রয়ে গেছে, অসহ্য যন্ত্রণায় তারা কর্মক্ষমতা হারিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বক্তাদের ভাষ্য, নিপীড়নের শিকার এসব আদিবাসী সাঁওতাল এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাঁওতাল-অধ্যুষিত এলাকায় ভূমিদস্যুদের অপতৎপরতা এখনো থামেনি।
সমাবেশ থেকে বক্তারা তিন সাঁওতাল হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা মামলার আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের আহ্বান জানান। বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে এবং তাদের জমি ফিরিয়ে দিতেও সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গেলে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। আহতদের মধ্যে মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম মারা যান। এক দশক পরও সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনও হয়নি।
সময়ের আলো/এনএন