চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় এ ঘটনা ঘটে। ছবি : সংগৃহীতবরগুনায় বিএনপি নেতা মো. জহিরুল ইসলাম লিমন হাওলাদারের পথসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এনামুল তালুকদার ও হাবিব হাওলাদার নামে দুই ব্যক্তি এ স্লোগান দেন বলে জানা গেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে আমতলী উপজেলার চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ ও পথসভা করছেন হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম লিমন হাওলাদার। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে চরচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী লিমন হাওলাদার। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, পথসভায় লিমন হাওলাদারের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনামুল তালুকদার ও হাবিব হাওলাদার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তারেক রহমানের পক্ষে স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের মধ্যে হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের একাংশ বিস্মিত হন। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী বক্তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ সভাস্থল ত্যাগ করেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভিডিওটি ঘিরে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ কেউ স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সভায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৮ অক্টোবর উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের বক্তব্য শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
ওই ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মামলায় তিন শিক্ষার্থী জামিন পেলেও সাইফুল কাজী নামের অপর এক শিক্ষার্থী কারাগারে ছিলেন। তবে তার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে হলদিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী জহিরুল ইসলাম লিমন হাওলাদারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন কয়েকজন ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তিকে সহযোগিতা করছেন লিমন হাওলাদার। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. জহিরুল ইসলাম লিমন হাওলাদার বলেন, গ্রামের মানুষ না বুঝে জয় বাংলা বলে ফেলেছে। তারা না আওয়ামী লীগ করে, না বিএনপি করে।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন