প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
নিহতের স্ত্রী সেতুমণিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ছবি : সংগৃহীতপোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন চলাকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে তার কর্মস্থল লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। নিহতের স্ত্রী সেতুমণিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে চাকরি এবং শিশুসন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিশুকালে বাবাকে হারানোর পর নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন তৌফিক হোসেন। দারিদ্র্যের কারণে বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি তিনি। জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান। একপর্যায়ে গাজীপুরের লায়লা স্টাইল গার্মেন্টসে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ছয় মাস আগে একমাত্র বসতঘর ও জমি প্রতিবেশী মানিক মিয়ার কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের মধ্যে গত সোমবার দুপুরে খাবার শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তৌফিক। এ সময় শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শিশুসন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন স্ত্রী সেতুমণি। এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়িয়েছে তৌফিকের কর্মস্থল লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে তৌফিকের বাড়িতে যান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এ সময় তারা পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মিন্টু সাহা বলেন, তৌফিক হোসেনকে হারিয়ে তারা অত্যন্ত মর্মাহত। তার স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধা মা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তার স্ত্রীকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হবে। শিশুসন্তানের লালন-পালনের জন্য কোম্পানির নিজস্ব চাইল্ড হোম কেয়ারে ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তৌফিকের বসতবাড়ির জায়গা বিক্রির ৬০ হাজার টাকা ক্রেতার কাছ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. শামীম ফেরদৌস জানান, বিধি অনুযায়ী তৌফিক হোসেনের পাওনা ১ লাখ ৯ হাজার টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। শুক্রবার নগদ ২ লাখ টাকা ও বসতঘরের জায়গার জন্য আরও ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিমাসহ অন্যান্য পাওনাও তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ভবিষ্যতে তৌফিকের পরিবার যাতে ভালোভাবে চলতে পারে, সে জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
স্বামীর কর্মস্থল লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সেতুমণি। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসীরাও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
সময়ের আলো/এনএন