ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি : সময়ের আলোব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কসবা পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধি খ ম হারুনুর রশীদ ঢালীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা গেছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কবির আহমেদ ভূঁইয়ার সমর্থকেরা শনিবার বিকেলে কসবা পৌর শহরের আড়াইবাড়ি এলাকায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেন। অন্যদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া করেন। পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি চলে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়।
আহত সাংবাদিক হারুনুর রশীদ ঢালী (৬০) মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধি। অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন কসবার মইনপুর গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৪৮), বিনাউটি গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে সালমান (৩২), বায়েক গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে বাবু (৩০), আড়াইবাড়ি গ্রামের রাশেদ মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩৪), কুটি ঘড়িপুর গ্রামের জীবন মুন্সির ছেলে সাকিব (১৮) এবং চড়নাল গ্রামের মানিক মিয়া (৪৭)।
আহতদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেটের আশপাশে উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।
জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদল।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ এর প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। বুধবার নতুন কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা গেলেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কসবা থানার এসআই হারুনুর রশীদ। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মো. রাশেদ জানান, বিএনপির দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি ছিল। দুইপক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের কথা বললেও পরবর্তীতে সংঘর্ষে জড়ায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
সময়ের আলো/আতা