তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি : সময়ের আলোক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, তিনি আসবো আসবো বলে আসবেন না তা কিন্তু হবে না। তাকে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি নাকি বাংলাদেশে আসবেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। এখনই আসেন। আপনার আসতে হবে না, আমরা নিয়ে আসবো। এসে বিচারের মুখোমুখি হবেন। আপনাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। আসবো আসবো বলে আসবেন না, তা কিন্তু হবে না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যখন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হতে চলেছে, তখনই জিয়া পরিবার বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য কর্মী হিসেবে আমরা আজকে গর্বিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ভাবছেন যে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদেরকে ছেড়ে দেবে। বাংলাদেশের জনগণ অত বোকা না। ১৭ বছর লুটপাট করেছেন। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন। আপনাদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করলে গ্রেফতার করেছেন, গুম করেছেন, হত্যা করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছিল। ২৪ এর ছাত্রজনতার আন্দোলনে বাংলাদেশ পুনরায় স্বাধীনতা পেয়েছে। এই স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করতে কাউকে দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ জুলাইয়ের হত্যার কথা ভুলে যায়নি। নারী শিশুকে যেভাবে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের জনগণ কোনোদিন ভুলবে না।’
স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের বাড়ির আশেপাশে, আপনাদের পরিচিত, অপরিচিত, জানামতে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাদেরকে সোপর্দ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নান্দাইলসহ বাংলাদেশের কোথাও বিশৃঙ্খলা করার কোনো সুযোগ নাই। বাংলাদেশের জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ আছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেই উন্নয়ন করে চলেছেন, যেই পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নান্দাইলেও বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে ১৮৬ টি রাস্তা পিটের সোলিং করা হয়েছে। আরও ১০৪ টি রাস্তা ইটের সোলিং করা হবে। সাড়ে ১১ কোটি টাকায় বিভিন্ন রাস্তা পুনঃসংস্কার করার জন্য অনুদান এনেছি। গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। ইতোমধ্যে ৩৬ টি ঘর স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা-মা-বোনদেরকে ঘরগুলো দিয়েছি। ভবিষ্যতে ১০৪ টি ঘর দেওয়ার জন্য এই বছর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ভবিষ্যতে আরও দেবো।’
তিনি বলেন, ‘নান্দাইলে একের পর এক উন্নয়ন হবে। পাঁচ সুখীর ব্রিজের জন্য অনুদান পেয়েছি। জাহাঙ্গীরপুর, চর বেতাগৈর ব্রিজের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সেগুলো অনুমোদনের পর্যায়ে আছে। আমাকে আপনারা নান্দাইলের উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়েছেন। নান্দাইলের উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আপনারা আমার সাথে থাকুন। আমি আপনাদের কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের কর্মী হিসেবেই থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা যেভাবে আপনাদের সাথে ছিল, আপনাদের এই নান্দাইলের উন্নয়ন করেছে ঠিক সেভাবেই আমিও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’
সময়ের আলো/আতা