ফটিকছড়িতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ। ছবি : সময়ের আলোউত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হেঁয়াকো বাজার; দিন-রাত সমানে চলে সওদাপাতি। কিন্তু শান্তির পরিবেশ অশান্তিতে রূপ নেয় ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে। কিন্তু বর্তমানে হেঁয়াকো বাজারজুড়ে সুনসান নিরবতা। স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি থমথমে। ঘটনায় বেশ বেকায়দায় পড়েছেন নিরীহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
সর্বশেষ শনিবার রাতে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার প্রসিদ্ধ এই বাজারে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী যানচলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটি সব সময় অপরাধপ্রবণ। দখলদারি আর চাঁদাবাজির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিএনপির দুইটি গ্রুপে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। একটির নেতৃত্ব দেন একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং একাধিক মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন বিপ্লব। তার সাথে দলের স্থানীয় বেশকিছু নেতাকর্মী সক্রিয়।
অন্যটির নেতৃত্ব দেন ভুজপুর থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আমিন আজাদ। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার সাথে সক্রিয় ঘোষণা কবির নামের এক বিএনপিকর্মীসহ বেশকিছু স্থানীয় নেতাকর্মী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হেঁয়াকো ট্রাক চালক সমিতি ও মালিক সমিতি নামের দুইটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বারৈয়াহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক মহাসড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিএনপির দুইটি পক্ষ সক্রিয় হওয়ায় একটি পক্ষকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অজুহাতে অন্য পক্ষ সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় হেঁয়াকো সরকার পাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে বিপ্লবকে লক্ষ্য করে ছুরি নিয়ে হামলা চালান নুরুল আমিন আজাদের অনুসারী যুবদল কর্মী ঘোষণা কবির। এ সময় উভয় পক্ষের দুইজন ছুরিকাঘাতে আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রামগড় ও ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে ঘোষণা কবিরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের নেতাকর্মী সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এক ঘণ্টা বারৈয়াহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে ভুজপুর থানা ও দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দুইদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, রাত সোয়া দশটার দিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত। রাজনৈতিক দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়িছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখনো কেউ অভিযোগ বা মামলা করেন নি। পুলিশি টহল বিদ্যমান রয়েছে।
ভুজপুর থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, কিছু সন্ত্রাসী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অশান্ত করতে চাইছেন। তারা দলের কেউ নন। সন্ত্রাসীদের কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি। বিএনপিতে কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হতে পারে না। এতে দলেরই ক্ষতি বেশি।
বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন বিপ্লবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার কর্মী-সমর্থকেরা মনে করেন, দীর্ঘদিন বিপ্লব হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি দলের স্বার্থেই সব করেছেন।
সময়ের আলো/আতা