দেশে দেশে যে নামে ডাকা হয় ‘বাবা’কে

ইসমাইল মাহমুদ

সম্পাদকীয়

‘বাবা’ এক সুশীতল বটবৃক্ষ, সন্তানের জন্য আশীর্বাদের এক নাম ‘বাবা’। বাবার জন্যই আকাশ-বাতাস’ চন্দ্র-সূর্য দেখার সুযোগ হয়েছে বিশ্বের সব সন্তানের।

2019-06-16T00:00:00+00:00
2019-06-16T00:00:00+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
দেশে দেশে যে নামে ডাকা হয় ‘বাবা’কে
সময়ের জানালা
ইসমাইল মাহমুদ
প্রকাশ: রোববার, ১৬ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম   (ভিজিট : ১৫২১)
‘বাবা’ এক সুশীতল বটবৃক্ষ, সন্তানের জন্য আশীর্বাদের এক নাম ‘বাবা’। বাবার জন্যই আকাশ-বাতাস’ চন্দ্র-সূর্য দেখার সুযোগ হয়েছে বিশ্বের সব সন্তানের। সারা বছরই সন্তানের জন্য যিনি সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকারে রাজি তিনি ‘বাবা’। বছরের ৩৬৫ দিনই ‘বাবা’ তার সন্তানকে স্নেহের ছায়াতলে রাখেন। সন্তান প্রতিটি বাবার জন্য অমৃতসম। সন্তানেরা বছরের একটি দিনকে বাবার জন্য আলাদা করে বেছে নিয়েছে। জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস। সারা বিশ্বের সন্তানরা একসঙ্গে পালন করবে এই দিবসটি।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ‘বাবা’কে সন্তানেরা ভিন্ন নামে ডাকা হয়। ‘বাবা’ বাংলাদেশের প্রতিটি সন্তানের কাছে ‘বাবা’ নামেই সমাদৃত। আধুনিককালে অনেকেই বাবাকে আব্বা, ড্যাডি, পাপ্পা, পাপা এ ধরনের নানা ভাষায় মূলত ডেকে থাকে। পৃথিবীর কোন দেশে বাবাকে যেভাবে ডাকে সন্তানরা তা হলোÑ জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে ‘ফ্যাট্যা’; ড্যানিশ ভাষায় ‘ফার’; আফ্র্রিকান ভাষায় ‘ভাদের’; চীনের ভাষায় ‘বা’; কানাডিয়ান ভাষায় ‘পাপা’; ক্রোয়েশিয়ানে ‘ওটেক’; ব্রাজিলিয়ান ও পর্তুগিজ ভাষায় ‘পাই’; ডাচ ভাষায় ‘পাপা’, ‘ভাডের’ আর ‘পাপাই’; ইংরেজি ভাষায় ‘ফাদার’, ‘ড্যাড’, ‘ড্যাডি’, ‘পপ’, ‘পপা’ বা ‘পাপা’; ফিলিপিনো ভাষায় ‘তাতেই’, ‘তেয়’, ‘আমা’; হিন্দি ভাষার ‘পিতাজি’; ইন্দোনেশিয়া ভাষায় ‘বাপা’ ও ‘আইয়্যাহ’; জাপানি ভাষায় ‘ওতোসান’ ও ‘পাপা’; পূর্ব আফ্রিকার ভাষায় ‘বাবা’; হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় ‘পাপা’, ‘আপা’, ‘আপু’, ‘এদেসাপা’ ইত্যাদি; হিব্রæ ভাষায় ‘আব্বাহ’। এ ধরনের আরও অসংখ্য ভাষা রয়েছে পৃথিবীতে। তবে পৃথিবীর যে প্রান্তে যেকোনো সন্তান যে নামেই ডাকুক না কেন বাবা তো বাবাই। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব সন্তানের বাবা। বাবা দিবসের ইতিহাস : ‘বাবা দিবস’ পালন শুরু হয় গত শতাব্দীর প্রথমদিকে। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল এটা প্রমাণের জন্যই এ দিবসটি পালন শুরু। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় বাবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য প্রথম এই দিনটি পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামে ওয়াশিংটনের এক মহিলাও বাবা দিবস নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন। যদিও সনোরা স্মার্ট ডড ১৯০৮ সালের ভার্জিনিয়ায় পালিত বাবা দিবসের কথা জানতেন না। সনোরা স্মার্ট ডড বাবা দিবস পালনের আইডিয়াটা পান এক গির্জায় পুরোহিতের বক্তব্য থেকে। সেই পুরোহিত মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন।
তখন সনোরা স্মার্ট ডড ভাবেন বাবাদের নিয়েও কিছু একটা করা দরকার। সনোরা স্মার্ট ডড তার বাবাকে প্রচÐ ভালোবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর অর্থাৎ ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে ‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু করেন। বর্তমানে যেভাবে বাবা দিবস পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথমদিকে কিন্তু এতটা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাবা দিবস পালিত হতো না। সে সময়ে বাবা দিবস পালিত হতো অনেকটা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে। সে সময়ে ‘মা দিবস’ নিয়ে মানুষের মাঝে যতটা উৎসাহ ছিল বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা ছিল না। কারও কারও কাছে সে সময়ে ‘বাবা দিবস’ বেশ হাস্যকরই ছিল। তবে ধীরলয়ে অবস্থা পাল্টাতে থাকে। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। তারপর থেকে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার ‘বাবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: