প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম
ছেলেটার বয়স ১৩ কি ১৪ বছর। তুমুল যুদ্ধ চলছে। পাকিস্তানি বাহিনী পরাস্ত। বেঁচে আছে মাত্র দুজন মিলিটারি। তাদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। অন্যজনের এক পা গুলিতে ঝাঁজরা। এদিকে রাইফেল তাক করা সেই ছেলেটা। ট্রিগারে তার আঙুল শক্ত করে চেপে ধরা, কিন্তু সে গুলি করছে না। সহযোদ্ধারা সবাই বিস্মিত, কোথায় গেল ছেলেটার রাগ! এ তো সেই ছেলেটা, যে কিনা তার পুরো পরিবারের একমাত্র জীবিত ব্যক্তি। যে কিনা সব পাকিস্তানিকে একাই মেরে ফেলবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিল। যে কিনা আজও সবার সামনে থেকে ফাইট করছিল। নাহ, কিছুই মিলছে না। এদিকে পায়ে গুলি লাগা আর্মিটি ধীরে ধীরে ক্রল করে এগিয়ে যায় মুমূর্ষু সহযোদ্ধার কাছে। বহু কষ্ট করে কাঁধে তুলে নেয় তাকে। তার মনেও ঝড় চলছে। যেকোনো মুহূর্তে গুলি করে দিতে পারে এই বাচ্চা ছেলেটা। কিন্তু কিছুই করার নেই। যদি বাচ্চাটার মনে একটু দয়া হয়, যদি সে গুলি না করে, তাহলে হয়তো এ যাত্রায় সে বেঁচে যাবে। সবাইকে হতবাক করে যতক্ষণ না পাকিস্তানি আর্মিটি তার সহযোদ্ধাকে কাঁধে করে হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে চোখের আড়াল হলো, ততক্ষণ ছেলেটা রাইফেল তাক করে রাখল, কোনো নড়াচড়া বা গুলি করল না।