
দেশব্যাপী অতিদ্রæত মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও গুণগত মানের মোবাইল সেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে
টাওয়ার শেয়ারিং কার্যক্রম শুরু হলো। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে সামিট কমিউনিকেশন্স এবং বাংলালিংকের টাওয়ার শেয়ারিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, টাওয়ার শেয়ারিংয়ের এই যাত্রা কোয়ালিটি অব সার্ভিসের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে চারটি কোম্পানির স্বাক্ষরিত টাওয়ার শেয়ারিংয়ের চুক্তির মাধ্যমে গৃহীত উদ্যোগের যাত্রা শুরু হলো। এর ফলে বিশাল বিনিয়োগ নির্ভর টেলিকম খাতে মোবাইল অপারেটরদের জন্য নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজটি যেমন সহজ হলো, তেমনি গুণগত মানের মোবাইল সেবা প্রদানের বিষয়টিও অপারেটরদের জন্য হয়েছে সহজতর। গুণগত সেবা নিশ্চিত করতে স্পেকট্রাম সহসাই নিলাম করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যান্যের মধ্যে এ অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আফজাল হোসেন, সামিট গ্রæপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, বাংলালিংক গ্রæপের চেয়ারম্যান সার্গে হেরিরিরো, বাংলালিংকের সিইও এরিক অস এবং সামিট টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেড চেয়ারম্যান ফরিদ খান বক্তৃতা করেন।
মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে আইটিইউ ও ইউপিইউর সদস্য পদ অর্জন এবং ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভ‚-কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দেশকে ডিজিটালাইজ করার যে বীজ বপন করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোবাইল, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট জনগণের জন্য সহজলভ্য করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তা চারা গাছে রূপান্তর করেছিলেন। ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় গত ১১ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি একটি বিরাট মহীরুহে রূপান্তর লাভ করেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের এমন কোনো গ্রাম থাকবে না যেখানে উচ্চ গতির ইন্টারনেট থাকবে না। আগামী দিনের শিল্প কারখানা হবে ৫-জি প্রযুক্তিনির্ভর। আমরা ৫-জি চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। টেলিকম খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্বের যোগান দিয়ে থাকে। পাশাপাশি ডিজিটাল সংযোগ জাতীয় প্রবৃদ্ধির জন্য বিশাল অবদান রেখে চলেছে। কোভিডকালে বিশে^র অনেক দেশ যেখানে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি সেখানে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ২৪ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের অগ্রযাত্রায় বড় দৃষ্টান্ত। এ সময় মন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ অবকাঠামো তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সবার ভ‚মিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের চেয়েও ভালো বলে উল্লেখ করেন।