ই-পেপার শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪
শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪

প্রণোদনা ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ গার্মেন্ট মালিকরা
প্রকাশ: সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ২:৫৫ এএম  (ভিজিট : ৩৩৬)
তৈরি পোশাক শিল্পের হারানো প্রণোদনা ফিরে পেতে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হলেন দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা। একই বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখ করেছেন বিজিএমইএ নেতারা। আর গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ জানান বিকেএমইএর নেতারা। এ সময় পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, প্রণোদনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত সার্কুলার শিল্পকেই হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে, মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। এর মাধ্যমে নিটওয়্যার খাতে ৮০ শতাংশের ওপরে রফতানি ভর্তুকি বন্ধ করা হয়েছে। 

বিজিএমইএ নেতারা পোশাক শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএর বর্তমান বোর্ডের প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান (কচি), সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি মিরান আলী, সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক ব্যারিস্টার শেহরিন সালাম ঐশী, পরিচালক ব্যারিস্টার ভিদিয়া অমৃত খান ও পরিচালক নীলা হোসনে আরা।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান তৈরি পোশাক শিল্পের অগ্রগতি, বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পরিবেশগত সাসটেইনেবিলিটি এবং শ্রমিকদের কল্যাণে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রতিনিধি দলটি অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির বিষয় উল্লেখ করে পোশাক রফতানির নতুন বাজার অনুসন্ধানে বিজিএমইএর গৃহীত উদ্যোগগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বিশ্ব বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবসহ পোশাক শিল্পের বর্তমান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ শিল্পের প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত রাখতে পোশাক খাতের সম্মুখ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের নীতি সহায়তাগুলো অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানান। প্রতিনিধি দলটি পোশাক খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিকেএমইএর চিঠি
এদিকে বিকেএমইএ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার প্রতিনিধি মারফত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গত ৩০ জানুয়ারি জারিকৃত এফই সার্কুলার নং-২-এর কারণে সৃষ্ট সমস্যার প্রেক্ষিতে সার্কুলারটির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার অনুরোধ প্রসঙ্গে-এই শিরোনামের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নগদ সহায়তা আমাদের কাছে কোনো লভ্যাংশ নয়, বরং দেশীয় শিল্পের বিকাশের স্বার্থেই নগদ সহায়তার প্রবর্তন হয়েছিল। যদিও নগদ সহায়তা কাগজপত্রে চূড়ান্ত রফতানিকারকরা পেয়ে থাকে, বাস্তবে কিন্তু সুতা বিক্রির সময়ই তা হিসাব করে স্পিনিং মিলগুলো সুতার মূল্যের সঙ্গেই নিয়ে যায়। রফতানি পরবর্তী মূল্য প্রত্যাবাসিত হওয়ার পর নানা ধরনের দীর্ঘ এক জটিল অডিটিং প্রক্রিয়া শেষে উদ্যোক্তাদের কাছে ভর্তুকি হিসেবে এই সহায়তা পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। এর পরও দেশীয় শিল্পের বিকাশের স্বার্থে নিজেদের ক্ষতি মেনে নিয়েও আমরা সুতা আমদানি না করে দেশীয় সুতা ব্যবহার করে পণ্য রফতানির কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা বস্ত্রশিল্প সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন এবং কারখানাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে বাংলাদেশের শিল্প ব্যবস্থায় অবদান রাখার চেষ্টারত রয়েছি। কিন্তু কোনো প্রকার পূর্বাপর আলোচনা ছাড়া গত ৩০ জানুয়ারি, নগদ সহায়তা সংশ্লিষ্ট জারিকৃত এফই সার্কুলার নং-২-এ যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো পুরো শিল্পকেই হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং আমরা নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে রফতানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। তা ছাড়া এ-সংক্রান্ত পূর্বের (২৪ আগস্ট ২০২৩ এফই সার্কুলার-জারি করে তা গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের কথা বলায় আমরা মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। 

চিঠিতে বিকেএমইএ নেতারা আরও বলেন, রফতানি নগদ সহায়তার বাইরে থাকবে বলে পুরো নিটওয়্যার খাতের (৮০ শতাংশের এর ওপরে) রফতানি ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে প্যারেন্ট মন্ত্রণালয় হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে পরামর্শ দিলে আমরা গত ৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি, যেখানে অর্থ সচিব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবও উপস্থিত ছিলেন। উভয় জায়গা থেকেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত বড় একটি বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হলে পুরো সেক্টরটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। নিটওয়্যারের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো, অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে এ খাতের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। এ ছাড়াও ওই সার্কুলারের ৪ নং পয়েন্টে আনীত সংশোধনের মাধ্যমে নতুন বাজার সুবিধাপ্রাপ্তির দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য পণ্য রফতানির ক্রমবিকাশমান নতুন বাজার। আমরা বিগত বছরগুলোতে নতুন বাজার সৃষ্টির আপনার নির্দেশনা মোতাবেক ধারাবাহিকভাবেই এই বাজারগুলোতে পণ্য রফতানি বৃদ্ধি করে চলেছি। কিন্তু এখন নতুন বাজার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারতকে বাদ দেওয়ায় রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

আমরা মনে করি, টেক্সটাইল ও ক্লথিংয়ের বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বিদ্যমান অবস্থা বিবেচনায় না নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলাপ আলোচনা না করে হঠাৎ করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে তা বিবেচনার দাবি রাখে। তথ্যমতে, আমাদের তৈরি পোশাকের রফতানি আদেশ বর্তমানে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। টেক্সটাইল স্পিনিং মিলগুলো তীব্র ডলার ও গ্যাস সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে ৩০-৪০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারছে না। অন্যদিকে আমাদের বিভিন্ন ধরনের ঋরহধহপরধষ ঈড়ংঃ ও বেড়ে গেছে যেমন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি উন্নয়ন তহবিল অনিয়মিত এবং একইসঙ্গে তার সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিকেএমইএ নেতারা বলেন, এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গত ৩০ জানুয়ারি জারিকৃত এফই সার্কুলার নং-২-এর ক্রমিক নম্বর ৫-এর আওতাভুক্ত এইচএস কোডভুক্ত তৈরি পোশাককে নগদ সহায়তার আওতা বহির্ভূত রাখার কারণে সৃষ্ট নেতিবাচক দিক বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোকে পূর্বের ন্যায় বিকল্প নগদ সহায়তার আওতাভুক্ত করা, অস্ট্রেলিয়া-জাপান-ভারতকে নতুন বাজার সম্প্রসারণ সহায়তায় অন্তর্ভুক্ত রাখা ও নগদ সহায়তার হার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জুন ২০২৪ পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখাসহ সার্কুলারটি স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

সময়ের আলো/আরএস/ 






https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close