২০২৫ সালের মধ্যে কুইক রেন্টাল ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দেশের সব রাজনৈতিক দল বিদ্যুৎ খাতে ভাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। কেবল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায়

2024-02-14T23:30:04+00:00
2024-02-14T23:30:04+00:00
 
  রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬,
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
আওয়ামী লীগের ভাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধে অনিহা
২০২৫ সালের মধ্যে কুইক রেন্টাল ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের প্রস্তাব
সিপিডির ব্রিফিং
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১১:৩০ পিএম   (ভিজিট : ৭১৪)
২০২৫ সালের মধ্যে কুইক রেন্টাল ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের প্রস্তাব
দেশের সব রাজনৈতিক দল বিদ্যুৎ খাতে ভাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। কেবল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায় না। দলটির নির্বাচনি ইশতেহারেও বিষয়টি রাখা হয়নি বলে একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দাবি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বাংলাদেশে জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ একটি নাগরিক ইশতেহার শীর্ষক সেমিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিপিডি। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নির্বাচনে জ্বালানি গুরুত্ব আগেও ছিল, আগামীতেও থাকবে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের ইশতেহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায় দলগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানিতে মনোযোগী। তবে রিনিউএবেল জ্বালানিতে তাদের মনোযোগ কম।

তিনি বলেন, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে বিদ্যুৎ জেনারেশন বৃদ্ধি, ট্রান্সমিশন লাইন বৃদ্ধি ও পিপির মাধ্যমে জ্বালানি প্রকল্পের কথা বলছে। এ সময় তিনি জ্বালানি রূপান্তরে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সিপিডি মনে করে প্রতিটি সেক্টরের কার্যক্ষমতা নির্ভর করে বিদ্যুৎ খাতের ওপর। তাই অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

সিপিডির স্বল্প মেয়াদি (আগামী জুন) মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, জ্বালানি চাহিদা পূর্বাভাস সংশোধন করা, জ্বালানির মূল্য পরিশোধ স্থানীয় মুদ্রায় করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা, সোলার সামগ্রীতে শুল্ক কমানো ও বায়োগ্যাস ব্যবহার করা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কুইক রেন্টাল ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো বিদ্যমান ফেজ আউট তালিকায় নেই, সেগুলো দেরি না করে ফেজ আউট করা। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অন্তর্ভুক্ত করা ও অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রাসহ সমন্বিত জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা।  এছাড়াও প্রকৌশলীদের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে হবে, পাওয়ার প্ল্যান্ট ইনডিমিনিটি অ্যাক্ট বাতিল করার কথাও বলা হয়।  

বক্তারা বলেন, সরকারকে অবশ্যই বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। অন্যথায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অব্যাহত লোকসান থেকে মুক্তি পাবে না।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল বলেন, দেশের শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জনই আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

তিনি বলেন, জনগণের দাবি বিদ্যুৎ পাওয়া। তারা আর বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করতে চায় না এবং উৎপাদন খরচ দেখতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, কিছু ভুল থাকতে পারে, তবে আমরা সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রধান বাধা হচ্ছে দেশে জমির স্বল্পতা।

বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। সরকার রাতারাতি বিদ্যুৎ রূপান্তরের জন্য তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারে না।

বুয়েটের কেমিক্যাল অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন এবং প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ড. এম তামিম বলেন, সরকার দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সহজেই তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করতে পারে, তবে এ জাতীয় কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিকল্পনার আওতায় আগামী ২০ বছর ১০ হাজার মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানির ফলে দেশে ডলারের ঘাটতি বাড়ছে। আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আমাদের দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে।

অ্যাকশন এইডের আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) বেসরকারি উৎপাদকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ৫২ হাজার কোটি টাকা, ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

সময়ের আলো/জেডআই

Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: