বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে আশা জাগাচ্ছে তৈরি পোশাক রফতানি (আরএমজি)। একক মাস হিসেবে জানুয়ারিতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। এটি একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছেন পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, মূলত একক মাসের সর্বোচ্চ রফতানির রেকর্ড হয়েছে জানুয়ারিতে। এই মাসে ৪ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন বা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাকপণ্য রফতানি হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে পোশাক রফতানির চিত্র হতাশাজনক হলেও জানুয়ারিতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক সূচকের দিকে বাঁক নিয়েছে। এই মাসে পোশাক রফতানিতে ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওভেন পোশাকে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বছরের বাকি সময় আরও ভালো খবর আসবে এমন আশা প্রকাশ করে ফারুক হাসান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য এখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। গত বছরের হলিডে সিজনে আমাদের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র্র ও যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বেচাকেনা হয়েছে। এতদিন তাদের ইনভেনটরিতে যেসব পণ্য জমা ছিল, সেগুলোও কমে এসেছে। ফলে এখন নতুন ক্রয়াদেশ আসার প্রবণতাও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালটি আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হতে পারে বলেই মনে হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে জানুয়ারির পণ্য রফতানির যে তথ্য ইপিবি প্রকাশ করেছে, সেখানে সার্বিক রফতানি আয়েও রেকর্ড দেখা গেছে। জানুয়ারিতে মোট ৫৭২ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি। ওই মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ।
পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীন। বর্তমানে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে চীনের অংশ ৩১ শতাংশের কিছু বেশি।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশ থেকে ৩ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাত থেকে ২ হাজার ৮৩৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাক (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৬১৮ কোটি ডলার সমমূল্যের এবং ওভেন পণ্যের (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
এ ছাড়া জুলাই-জানুয়ারি সময়ে অন্যান্য প্রধান রফতানি পণ্য যেমন-পাট ও পাটজাত পণ্য ৫১ কোটি ডলার, হোম টেক্সটাইল ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, পাদুকা ২৯ কোটি ৬২ লাখ ডলার, প্লাস্টিক পণ্য ১৪ কোটি ১৩ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্য ৫৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার, হিমায়িত মাছ ২৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং রাসায়নিক পণ্য ২০ কোটি ২২ লাখ ডলার রফতানি হয়েছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে এক বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, গত দুই বছরে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক খাত অনেক দূর এগিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ফলে আগামীতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও অন্তত ২ পয়েন্ট শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই সংকট সমাধান হলে পোশাক রফতানি আরও বাড়বে বলে আশা করেন ফারুক হাসান।