বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে চায় বিজিএমইএ। বিশেষ করে ইতালিতে বাংলাদেশি পোশাক রফতানি, বিশেষভাবে উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্যের রফতানি বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান ইতালির রোমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে এ অভিব্যক্তি জানান। বৈঠকে দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সেলর মো. আল আমিন এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) আসিফ আনাম সিদ্দিকসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান মৌলিক আইটেম থেকে হাই-অ্যান্ড পণ্য, বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবার এবং প্রযুক্তিগত টেক্সটাইলভিত্তিক ফ্যাশন আইটেমগুলোর দিকে শিল্পের ক্রমবর্ধমান স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা করেন। ইতালির বাজারে হাই-অ্যান্ড পোশাকের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে, তাই বাংলাদেশের জন্য ইতালিতে এ ধরনের পণ্য রফতানির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশে ইতালীয় বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য বিনিয়োগের জন্য নন-কটন টেক্সটাইল, খাদ্য ও কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, আইটি, হালকা প্রকৌশল, চামড়া এবং জাহাজ নির্মাণ খাতগুলোর রফতানি বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন।
ফারুক হাসান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্প খাতগুলোতে ইতালি থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ইতালীয় ক্রেতারা, যারা কিনা বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিং করে না, তাদের বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিং করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণের বিষয়ে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে ঢাকা ও রোমের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।
বিজিএমইএ সভাপতি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রদূতকে কনস্যুলার পরিষেবাগুলোকে আরও সহজীকরণ করার এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান। তিনি বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে বিইউএফটি এবং ইতালির ফ্যাশন ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলামকে অনুরোধ করেন।
সময়ের আলো/আরএস/