চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মা তার দুই বছরের শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে নিজ ঘরের ভেতরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।
মেয়েকে জবাই করে হত্যাকারী অভিযুক্ত মা শামিমা আক্তার সাইমাকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করেছে। নিহতের লাশ ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার সনাতনপুরে গ্রাম্য ডাক্তার মামুন অর রশিদের স্ত্রী শামীমা খাতুন (৩৫) মানসিক ভারসাম্যহীন রোগে ভুগছিলেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। ছোট সন্তানের নাম স্নেহা। বয়স দুই বছর। সোমবার সকালে শামীমা খাতুন তার ঘুমন্ত শিশুকন্যা স্নেহাকে দোতলায় সিঁড়িঘরের পাশে রান্নাঘরে নিয়ে যান। সেখানে বঁটি দিয়ে গলা কেটে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, শামিমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মামুন অর রশিদ ও শামিমা আক্তার সায়মা দম্পত্তির তিনটি মেয়ে আছে। প্রায় দেড় মাস আগে শামিমা তার ছোট মেয়ে স্নেহাকে গলায় রশি বেধে খাটের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিল। পরে পরিবারে লোক স্নেহাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সে বেঁচে যায়। পরে শামিমাকে জিজ্ঞাসা করলের সে বলে আমার তিনটি মেয়ে একটি মেরে ফেললে কি হবে।
সোনাতনপুর গ্রামের খাইরুজ্জামান জানান, সকালে শামিমা তার মেয়েকে ঘরের ছাদে নিয়ে তরকারী কাটা বটি দিয়ে জবাই করার পর ঘরে এসে তার স্বামী ও মেয়েদের বলেন স্নেহাকে জবাই করেছে। এসময় মামুন ও তার পরিবারের লোকজন ছুটে গিয়ে ঘরের ছাদে জবাই করা লাশ দেখতে পায়। বেশ কিছুদিন ধরে শামিমা মানষিক রোগে আক্রান্ত ছিল। তার চিকিৎসা চলছিল। ইতোপূর্বেও স্নেহাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল।
আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়াউর রহমান সময়ের আলোকে জানান, সোমবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার সোনাতনপুর গ্রামে মা কর্তৃক দুই বছরের শিশু কন্যাকে জবাই করে করার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি উদ্ধার করে। নিহতের মা শামিমা আক্তার সাইমাকে আটক করে আলমডাঙ্গা থানায় নেওয়া হয়। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
তিনি আরও জানান, মা শামিমা আক্তার সাইমার মাথায় সমস্যা রয়েছে বলে স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা জানান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তানকে জবাই করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন। মামলার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।