প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:১৫ পিএম (ভিজিট : ২৮০)
ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উদযাপন ঘিরে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর রাতে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায়, ভবনের ছাদে এবং প্রকাশ্যে কোনো ধরনের জমায়েত বা অনুষ্ঠান করা যাবে না। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় এবং রাত ৮টার পর গুলশান ও বনানী এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে পালন করা যাবে। মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান সীমিত আকারে উদযাপন করা হচ্ছে। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে নির্ধারিত অনুষ্ঠানসমূহ পালিত হবে। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। এ ছাড়া রাতে পটকাবাজি, আতশবাজি, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালনাসহ যেকোনো ধরনের অশোভন আচরণ এবং বেআইনি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিএমপির নির্দেশনার মধ্যে ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায়, ভবনের ছাদে এবং প্রকাশ্য স্থানে কোনো ধরনের জমায়েত, সমাবেশ বা উৎসব করা যাবে না। উন্মুক্ত স্থানে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান বা সমবেত হওয়া যাবে না বা নাচ-গান ও কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না। কোথাও কোনো ধরনের আতশবাজি-পটকা ফোটানো যাবে না।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পরে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দেওয়া সাপেক্ষে শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। তবে পরিচয় দেওয়া সাপেক্ষে নীলক্ষেত ক্রসিং দিয়ে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করা যাবে।
গুলশান ও বনানী এলাকায় রাত ৮টার পর বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে ওই এলাকার বাসিন্দারা নির্ধারিত সময়ের পর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং হয়ে পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। একইভাবে উল্লিখিত সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যে সব নাগরিক বসবাস করেন না তাদের এসব এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাত ৮টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার নাগরিকদের ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে বলা হয়েছে।
এদিন সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকার কোনো বার খোলা রাখা যাবে না। রাত ১০টার পর সব ফাস্টফুডের দোকান বন্ধ থাকবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করা যাবে। তবে কোনোভাবেই ডিজে পার্টি করতে দেওয়া হবে না। সন্ধ্যা ৩১ ডিসেম্বর ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব ধরনের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ করা হলো। কেউ এ নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ডিএমপি।
যান চলাচলে বিধিনিষেধ : ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহনযোগে প্রবেশের জন্য কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। সে ক্ষেত্রে গুলশান, বনানী ও বারিধারায় বসবাসরত নাগরিকদের রাত ৮টার মধ্যে এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। রাত ৮টা থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে মহাখালী এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১নং রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি ক্রসিং, ঢাকা গেট, শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে না, তবে বের হওয়া যাবে।
একইভাবে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত শুধু শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচয় নিশ্চিত সাপেক্ষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। এ জন্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে টিএসসি, রোমানা স্কয়ার, ঢাকা মেডিকেল সেন্টার, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ভাস্কর্য ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং, বকশীবাজার ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং এবং শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং দিয়ে কোনো যানবাহন প্রবেশ করবে না, শুধু বের হওয়া যাবে। হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে আগত সব যানবাহন দোয়েল চত্বরের বামে মোড় নিয়ে শহীদুল্লাহ হল হয়ে চানখাঁরপুল ক্রসিং দিয়ে বের হয়ে যেতে পারবে। কেউ বেপরোয়া, মদ্যপ ও বিপজ্জনক অবস্থায় গাড়ি চালালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় ডিএমপি।