লাইলাতুল কদর কবে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে রাতটি চেনার কিছু আলামতের কথা বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায়। নবীজি সা. বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’
যদিও অনেকের মতে ২৭ রমজানের রাতটি লাইলাতুল কদর বা শবে কদর।
হাদিসের বর্ণনায় এ রাতের কিছু বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মৃদ বাতাস প্রবাহিত হবে।
২. গভীর অন্ধকার থাকবে না।
৩. রাতটি হবে নাতিশীতোষ্ণ।
৪. এ রাতে ইবাদত বন্দেগীতে মানুষ তৃপ্তি পাবে।
৫. এ রাতে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি হতে পারে।
৬. হালকা আলোকরশ্মিসহ পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় সূর্যোদয় হবে।
৭. এ রাত সম্পর্কে কোন মুখলেস বান্দাকে আল্লাহ পাক জানাতে পারেন।
এ রাতে করণীয় আমল
মহিমান্বিত এ রাতটি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় ইবাদতের মাধ্যমে যাপন করতে হবে। সন্ধ্যার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত পুরোটা সময় লাইলাতুল কদরের অংশ। যেকোনো সময় আমল করলে কদরের সওয়াব পাওয়া যাবে। এ রাতের নির্দিষ্ট কোনো আমল নাই। অন্যান্য দিনে নফল আমল করার মতোই এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। নামাজের মধ্যে- তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ পড়া যাবে।
কোরআন শরিফ পড়া। বিশেষ করে সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুজ্জাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, ইয়া-সিন, সুরা ত-হা, সুরা আর রহমান ও অন্যান্য ফজিলতের সুরাসমূহ তিলাওয়াত করা।
দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া। তাওবা-ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা। দোয়া-কালাম, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদি করা। নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সব মোমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা। বিশেষ করে এই দোয়াটি পড়া-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (ইবনে মাজা : ৩৯৮২; মুসনাদে আহমাদ; তিরমিজি)।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো? রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন।