ঘুম থেকে জেগে করণীয়

আরমান হোসেন

ইসলামের আলো

সুন্দর একটি ঘুম দিয়ে জেগে ওঠা আল্লাহ তায়ালার অনন্য নেয়ামত। এ নেয়ামতের কারণে মানুষ নতুন জীবনপ্রাপ্ত হয়। কারণ অনেকের ঘুম

2021-12-30T05:08:54+00:00
2021-12-30T05:08:54+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
ঘুম থেকে জেগে করণীয়
আরমান হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫:০৮ এএম   (ভিজিট : ২৮৭২)
সুন্দর একটি ঘুম দিয়ে জেগে ওঠা আল্লাহ তায়ালার অনন্য নেয়ামত। এ নেয়ামতের কারণে মানুষ নতুন জীবনপ্রাপ্ত হয়। কারণ অনেকের ঘুম হয়ে যায় অনন্তকালের ঘুম। এক হাদিসে ঘুমকে মৃত্যুর ভাই আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ঘুম থেকে পুনরায় জেগে ওঠা ঈমানদারের কাছে স্বাভাবিক নয়, বরং আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে শোকরিয়া আদায় করা উচিত। তাই ইসলামে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর পর কী করণীয় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুন্নত পদ্ধতির শিক্ষা দিয়েছে। যেমন জাগ্রত হওয়ার পর দোয়া পড়া, মেসওয়াক করা, উভয় হাত দ্বারা নিজের চেহারা ও চক্ষুদ্বয় কচলিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। এ সুন্নতগুলো আমল করলে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় হবে। মুমিনদের উচিত জাগ্রতকালে সুন্নতগুলোর আমল করা।

ঘুম থেকে জাগা আল্লাহ তায়ালার অফুরন্ত নেয়ামত। ঘুমের পর চক্ষুদ্বয় আবার পৃথিবীর আলো ফিরে পাওয়া মানবজাতির জন্য মুক্তার তুল্য। ঘুম নামের মৃত্যুজগৎ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দাকে জাগ্রত করার মাধ্যমে পুনরায় জীবনদান করেন। তাই নবীজি (সা.) জাগার পর যে দোয়াটি পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন তাতে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়ার কথা বলা হয়েছে। হজরত হুজাইফা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন বলতেন, ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’ অর্থাৎ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মৃত্যুবরণের পর পুনরায় আমাদেরকে জীবিত করলেন আর তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন।’ (বোখারি : ৬৩৮৫)

এ ছাড়াও ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর আমল করার মতো আরও কিছু সুন্নত রয়েছে। যেমন- ১. ঘুম থেকে উঠে দুই হাত দ্বারা মুখমণ্ডল ও দুই হাত হালকাভাবে মর্দন করবে, যাতে ঘুমের প্রভাব কেটে যায়। ২. তিনবার আলহামদুলিল্লাহ বলা। ৩. তিনবার কালেমায়ে তায়্যিবা পড়া। ৪. ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা। ৫. ঘুম থেকে উঠে অজু করা উত্তম। ৬. ঘুম থেকে জাগ্রত হলে এ দোয়া পড়া- ‘আলহাদুলিল্লাহিল্লাজি ইয়ুহয়িল মাওতা ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’ অর্থাৎ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং প্রত্যেক জিনিসের ওপর শক্তিধর।’ ৭. জাগ্রত হয়ে এ দোয়াটিও পড়া সুন্নত- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালুহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির, আলহামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর লা হাওলা ওয়া-লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি আল্লাহুম্মাগফিরলি।’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। সারা জগতের বাদশাহি তাঁর। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।

তিনি প্রত্যেক জিনিসের ওপর শক্তির মালিক। সমুদয় প্রশংসা তাঁর জন্য। তাঁর সত্তা পবিত্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ সবার বড়। তিনি ব্যতীত গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। না ভালো কাজ করার শক্তি আছে। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, হিসনে হাসিন)

Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: