
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম। আত্মার পবিত্রতা, দৈহিক পরিচ্ছন্নতা, পোশাক ও পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে মুমিনরা সর্বদা সচেতন থাকবেন। প্রকৃত ঈমানদার হওয়ার জন্য পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার অবস্থান ঈমানের সঙ্গে। হাদিস শরিফে পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধাংশ বলা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে জীবনযাপনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। এ মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ভালোবাসেন তাওবাকারীদের এবং উত্তমরূপে পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের।’ (সুরা বাকারা : ২২২)
ধর্ম, রাষ্ট্র, সমাজ বা ব্যক্তি- সব জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করা হয়। মানুষের সুখের মূল হলো সুস্থ দেহ এবং সুস্থ মন। দেহের সুস্থতা ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যাবশ্যক হলো পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা। দেহের পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা; সব পরিচ্ছন্নতাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা সব সময়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে বাড়ির আশপাশ, রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার রাখা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। কারণ বৃষ্টির পানির কারণে বাড়ির আঙিনায়, রাস্তাঘাটে ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত পচন ধরে এবং ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। পানির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াও ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। রাস্তায়, বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা দূষিত পানিতে নানারকম পোকামাকড় জন্মায়। মশার উৎপাদন বাড়ে। বাইরের পানি পাড়িয়ে ঘরে প্রবেশ করলে পায়ে পায়ে ব্যাকটেরিয়াও ঘরে ঢুকে যায়। ফলে মানুষের মধ্যে অসুস্থতাও বেড়ে যায় প্রচণ্ড রকম।
বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে রাষ্ট্রের বিশেষ বিধিমালা রয়েছে। ধর্মেও রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন। তিনি পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। অতএব তোমরা তোমাদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখ।’ (তিরমিজি)।
অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা। আর সর্বনিম্ন শাখা হলো চলাচলের স্থান থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।’ (বোখারি) মানুষকে বিনা কারণে কষ্ট দেওয়া হারাম। রাস্তায় বা বাড়ির আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেললে মানুষের কষ্ট হয়। অতএব যে ব্যক্তি বাড়ির আঙিনায় বা রাস্তায় আবর্জনা ফেলবে সে গুনাহগার হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে যদি আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই, নিজের দেহের পরিচ্ছন্নতা, বাড়ির আঙিনার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করি তাহলে পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে আমাদের দেশ আর স্বচ্ছ হবে পরিবেশ। সর্বোপরি রাসুল (সা.)-এর সুন্নত পালন হবে। আল্লাহর রহমত ও ভালোবাসা মিলবে। দেশ পেয়ে যাবে সুস্থ-সবল জাতি। আর জাতি পাবে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশবান্ধব সমাজ।
/এসএ/