কেমন হবে হাশরের ময়দান

নূর মুহাম্মদ রাহমানী

ইসলামের আলো

পৃথিবী ধ্বংসের বহুকাল পর পুনরুত্থান শুরু হবে। হজরত ইসরাফিল (আ.)-এর শিঙায় দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কবর থেকে উঠতে

2021-08-16T12:42:07+00:00
2021-08-16T12:42:07+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
কেমন হবে হাশরের ময়দান
নূর মুহাম্মদ রাহমানী
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১, ১২:৪২ পিএম   (ভিজিট : ৪৮৩৮)
পৃথিবী ধ্বংসের বহুকাল পর পুনরুত্থান শুরু হবে। হজরত ইসরাফিল (আ.)-এর শিঙায় দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কবর থেকে উঠতে থাকবে। তখন সবাইকে হাশরের মাঠে একত্র করা হবে। ‘হাশর’ মানে একত্র হওয়া, জড়ো হওয়া। আর দুনিয়ায় কৃতকর্মের হিসাবের জন্য সেদিন মানুষকে একত্র করা হবে বলে দিনটিকে ‘ইয়াওমুল হাশর’ বলা হয়।

কবর থেকে সর্বপ্রথম যিনি উঠবেন তিনি হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব হজরত মোহাম্মদ (সা.)। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবী (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আমি হব সব আদমসন্তানের সরদার এবং আমিই প্রথম কবর থেকে উঠব। আল্লাহর নিকট আমিই প্রথম সুপারিশ করব এবং আমার সুপারিশই প্রথম কবুল হবে।’ (মুসলিম : ২২৭৮)।

স্বাভাবিক কিংবা অসুস্থতা, আগুনে পুড়ে বা পানিতে ডুবে, দুর্ঘটনায় কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে– যেকোনো কারণে মৃত্যুবরণকারী সবাইকে পুনরুত্থিত হতে হবে। মহান আল্লাহ নিজ কুদরত ব্যবহার করে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মৃত সব শরীর একত্র করবেন। তিনি মানুষ-জিন, পশু-পাখিসহ সব সৃষ্টিকে হিসাবের জন্য হাশরের ময়দানে জমা করবেন। আল্লাহ বলেন, ‘এটা এজন্য যে, আল্লাহ সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবনদান করেন এবং তিনি সব বিষয়ে শক্তিমান এবং কেয়ামত আসবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে তাদের নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্থিত করবেন।’ (সুরা হজ : ৬-৭)।

মানুষ সেদিন বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায় হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে। আল্লাহ বলেন, ‘অপমানে অবনমিত নেত্রে তারা কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায়, তারা আহ্বানকারীর দিকে ছুটে আসবে ভীত-বিহ্বল হয়ে। কাফেররা বলবে, কঠিন এই দিন।’ (সুরা কামার : ৭-৮)।

হাশরের ময়দানে মানুষ মাত্র এক দিন অবস্থান করবে। কিন্তু এই এক দিনই হবে ৫০ হাজার বছরের সমান। কোরআনে রয়েছে, ‘আপনার পালনকর্তার কাছে এক দিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।’ (সুরা হজ : ৪৭) অর্থাৎ ভয়াবহ ঘটনাবলি ও ভয়ঙ্কর অবস্থার কারণে দিনটিকে এক হাজার বছরের সমান দীর্ঘ মনে হবে। আমাদের বসবাসের জায়গা পৃথিবীই হবে হাশরের মাঠ। সেখানে মানুষ-জিন, পশু-পাখি সবাই উত্থিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে এবং পরিবর্তিত করা হবে আকাশসমূহকে এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে পেশ হবে।’ (সুরা ইব্রাহিম : ৪৮)।
হাশরের মাঠ হবে শ্বেত, মসৃণ ও সমতল। আল্লাহ বলেন, ‘(বিচার দিবসে) আল্লাহ জমিনকে এমন সমতল, মসৃণ, ধূসর ময়দানে পরিণত করবেন যে, তুমি তাতে কোনো বক্রতা ও উচ্চতা দেখতে পাবে না।’ (সুরা তহা : ১০৬-১০৭)।

মানুষের সেদিন তিনটি অবস্থা হবে। কেউ কেউ পায়ে ভর দিয়ে চলবে। কেউ সওয়ারি হয়ে আর কেউ পিপাসার্ত হয়ে চেহারার ওপর ভর করে একত্র হবে। দুরবস্থাটা কাফেরদের জন্যই হবে। আর মুমিন, মুত্তাকি, পরহেজগার ব্যক্তিবর্গকে সম্মানের সঙ্গেই একত্র করা হবে। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষকে তিনটি দলে উঠানো হবে। এক দল পদব্রজে, আরেক দল আরোহী এবং আরেক দল রয়েছে, যাদের চেহারায় হাঁটিয়ে হাশরে উঠানো হবে। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, মানুষ চেহারায় কীভাবে হাঁটবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘যিনি (আল্লাহ) পায়ে হাঁটাতে পারেন, তিনি চেহারায়ও হাঁটাতে পারবেন।’ (তিরমিজি : ৩১৪২)।

হাশরের ময়দানে প্রতিটি মানুষ শুধু পা রাখার মতো জায়গা পাবে। সেখানে থাকবে না কোনো পাহাড়, উদ্ভিদ ও ফুল-ফসল। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি জমিনের উপরিভাগকে (বিচার দিবসে) উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।’ (সুরা কাহাফ : ৮)।

সবাই সেখানে নিতান্ত অসহায়-নিঃস্ব হয়ে উত্থিত হবে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন মানুষকে উলঙ্গ দেহে ও খাতনাবিহীন অবস্থায় কবর থেকে হাশরের ময়দানে একত্র করা হবে। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, নারী-পুরুষ সকলেই কি উলঙ্গ হবে? তারা কি একে অপরের প্রতি তাকাবে? (এরূপ হলে তো খুব লজ্জার বিষয়)। উত্তরে তিনি বললেন, হে আয়েশা, কেয়ামতের দিনটি এত কঠিন ও বিপদময় হবে যে, মানুষের মনে একে অপরের প্রতি তাকাবারও খেয়াল হবে না।’ (মুসলিম : ২৮৬০)। অর্থাৎ মানুষ মায়ের পেট থেকে যেভাবে ভূমিষ্ঠ হয় সে অবস্থায় উঠানো হবে এবং সবার মধ্যে খুব ভয়ভীতি কাজ করবে। যার যে অবস্থায় ইন্তেকাল হয় সে অবস্থায় উঠবে। কাফের অবস্থায় মারা গেলে কাফের হয়ে উঠবে। ঈমান নিয়ে মারা গেলে ঈমান নিয়ে উঠবে। হজে মুহরিম অবস্থায় মারা গেলে মুহরিম হয়ে উঠবে। শহীদ হয়ে মরেছে সে এমতাবস্থায় উঠবে যে, তার রক্ত থেকে মেশকে আম্বরের ঘ্রাণ আসতে থাকবে।

মানুষ ও জিন জাতির জন্য হাশরের ময়দান হবে অনেক ভয় ও উৎকণ্ঠার। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। নবী-রাসুলরাও সেদিন ইয়া নাফসি (আমার কী অবস্থা হবে) ইয়া নাফসি (আমার কী অবস্থা হবে) বলতে থাকবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে ছুটে আসবে তাদের প্রতিপালকের দিকে। তারা বলবে, ‘হায়! দুর্ভোগ আমাদের! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠাল? দয়াময় আল্লাহ তো এরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসুলরা সত্যই বলেছিলেন। এটা হবে কেবল এক মহানাদ; তখনই তাদের সবাইকে উপস্থিত করা হবে আমার সামনে।’ (সুরা ইয়াসিন : ৫১-৫৩)। (চলবে...)

/এসএ/


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: