পরিবার গঠনে নারীর অবদান

রুনা আক্তার সুমি

ইসলামের আলো

নারী ও পুরুষের যৌথ চেষ্টা ছাড়া একটি আদর্শ পরিবার গড়ে উঠতে পারে না। পুরুষের পাশাপাশি নারীর বলিষ্ঠ ভূমিকায় একটি পরিবার

2021-08-16T12:53:53+00:00
2021-08-16T12:53:53+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
পরিবার গঠনে নারীর অবদান
রুনা আক্তার সুমি
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১, ১২:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ৪৯৪০)
নারী ও পুরুষের যৌথ চেষ্টা ছাড়া একটি আদর্শ পরিবার গড়ে উঠতে পারে না। পুরুষের পাশাপাশি নারীর বলিষ্ঠ ভূমিকায় একটি পরিবার পরিচালিত হয়। পুরুষের জীবন সংগ্রামের শক্তি, সাহস, প্রেরণা, সান্ত্বনা সব কিছুই আসে তার জীবন সঙ্গিনী থেকে। পুরুষ যখন জীবন সংগ্রামে ক্লান্ত তখন নারীই তাকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ে সহযোগিতা করে। যেখানে একজন পুরুষ পরিবারের হাল ধরেছে, সেখানে তার পেছনে রয়েছে একজন নারীর প্রেরণা। তাই তো মহান রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা, ‘তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে আর তার থেকেই তৈরি করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে।’ (সুরা আরাফ : ১৮৯)

নারী পরিবারের জননী। জননী হিসেবে একজন নারীকে চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সন্তানের জন্মদান থেকে শুরু করে বড় করে তোলা পর্যন্ত মা চরম কষ্ট সহ্য করেন, যে কষ্টের সঙ্গে পৃথিবীর কোনো কষ্টের তুলনা হয় না। এই কষ্টের স্বীকৃতি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কোরআনে দিয়েছেন– ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুবছরের হয় নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।’ (সুরা লোকমান : ১৫)।

মায়ের হাতেই একজন সন্তানের শিক্ষার হাতেখড়ি। তাই তো নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ একজন নারী পরিবারের জন্য যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দেন, তার কোনো বিনিময় পৃথিবীতে নেই। সব ধরনের পরিস্থিতিতে তারা পরিবারকে আগলে রাখেন, পরিবারের মানুষদের অনুপ্রেরণা জোগান। নিজে না খেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেন। অসুস্থ শরীর নিয়েই স্বামী-সন্তানের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। একজন নারী প্রতিদিন স্বামী-সন্তান ও নিজের সতীত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করে যান। তাদের এই ত্যাগ বিফলে যাওয়ার নয়। মহান আল্লাহ তাদের উত্তম পুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন।

একবার আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) এক আনসারি নারী সাহাবি নবীজির দরবারে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, পুরুষরা যখন জিহাদে বের হয় আমরা তখন তাদের পরিবার, অর্থ-সম্পদ এবং সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্বে ব্যস্ত থাকি, তা হলে আমরা কি এর প্রতিদান পাব? তখন নবীজি (সা.) সামনে বসা সাহাবিদের উদ্দেশ করে বলেন, দেখেছ দ্বীনি বিষয়ে এই নারী কত চমৎকার প্রশ্ন করেছে! তারপর ওই নারীকে নবীজি বলেন, তোমরা স্বামীর অনুপস্থিতিতে তোমাদের সতীত্ব রক্ষা করবে, স্বামীর সন্তুষ্ট অনুযায়ী চলার চেষ্টা করবে এবং সন্তানদের দেখাশোনা করবে, তা হলে তোমরাও আল্লাহর পক্ষ থেকে এর যথাযথ প্রতিদান পাবে। (শুয়াবুল ঈমান বায়হাকি, হাদিস : ১১/১৭৭)

কথায় আছে, ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’। সন্তানদের পরিচর্যা, অতিথিদের আতিথেয়তা সবকিছুর দেখাভাল একজন নারীই করে থাকেন। পুরুষ সম্পদ উপার্জন করেন ঠিকই; কিন্তু সে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নারীই করেন। তাই তো কবি নজরুল বলেছেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’

লেখক : শিক্ষার্থী, ইডেন কলেজ, ঢাকা

/এসএ/


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: