জিকির হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ। জিকিরের মজলিসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক। যেখানে আল্লাহর জিকির করা হয় সেখানে আসমান থেকে নাজিল হতে থাকে অবিরত রহমত। জিকিরের মজলিস খুঁজে বের করে তাদের প্রতি রহমতের ছায়াদানে নিযুক্ত আছে একদল ফেরেশতা। যারা সারা দুনিয়া জিকিরের মজলিস অনুসন্ধান করতে ঘুরে বেড়ায়। যখন আল্লাহকে স্মরণকারী কোনো মজলিস তারা পেয়ে যান আসমান-জমিন পরিধি নিয়ে সে মজলিসকে তারা ঘিরে রাখেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘মানুষের অন্তঃকরণে রয়েছে দুটি প্রকোষ্ঠ। একটিতে থাকে ফেরেশতা এবং অন্যটিতে থাকে শয়তান। অন্তরে জিকির উত্থিত হলে শয়তান পালিয়ে যায়। আর জিকির না থাকলে শয়তান অন্তরে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেয় তার নিজস্ব চিন্তা।’ (তাফসিরে মাজহারি : ৬/৩০০)।
জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে বান্দার এক ধরনের সংযোগ সৃষ্টি হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে না; উভয়ের মধ্য আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারেরা! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর।’ (সুরা আহজাব : ৪১)। অন্য এক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)। হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জিকির করে আর যে জিকির করে না, তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতের মতো।’ (বোখারি : ৮/৬৪০৭)।
আল্লাহ তায়ালার জিকির এমন একটি আমল যে, বান্দা যতই এ আমল করবে, ততই তার কলবের রৌশন বাড়তে থাকবে, অন্তরের প্রশান্তি বৃদ্ধি পেতে থাকবে। প্রত্যেক সুফি-দরবেশ জিকিরের আমলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর ওপর ঈমান আনে এবং আল্লাহর জিকিরে তাদের অন্তঃকরণ প্রশান্ত হয়, জেনে রাখো, আল্লাহর জিকিরই অন্তরসমূহকে প্রশান্ত করে।’ (সুরা রাদ : ২৮)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন আমার বান্দা আমাকে স্মরণ করে এবং তার ঠোঁট আমার স্মরণে নড়াচড়া করতে থাকে তখন আমি তার সঙ্গে থাকি।’ (ইলম ও জিকির : ১৩১)
জিকিরের মজলিসে বসলে এর ভাবগাম্ভীর্য ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে। আল্লাহর জিকিরের মতো সুন্দর একটি আমলের গুরুত্ব নানা কারণে সাধারণ ইবাদতকারীদের নিকট কমে যাচ্ছে। আমরা বুঝে হোক আর না বুঝে হোক জিকিরের আমলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলছি। আজকাল জিকিরের মাহফিলে নানা ধরনের অশালীন কথাবার্তা আলোচনা করার ফলে অনেকেই জিকিরের মাহফিলে বসতে চান না।
কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক; তিনি সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় ঘটিও না, তাঁকে ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকিবে।’ (সুরা আরাফ : ৫৫-৫৬)। আমাদেরকে আল্লাহর ভয় এবং আদবের সঙ্গে জিকিরের মজলিস পরিচালনা করতে হবে। জিকিরের মাহফিলকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিপর্যয়-বিপত্তি কিংবা সীমা লঙ্ঘন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা খুবই জরুরি। অন্যথায় সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের আশঙ্কাই বেশি।