মুরগি বা অন্যান্য পশু-পাখির জবাই সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, জবাইকারী মুসলমান কিংবা আহলে কিতাব তথা কোনো আসমানি কিতাবের অনুসারী এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বুঝমান ব্যক্তি হওয়া। জবাইয়ের শুরুতে আল্লাহ তায়ালার নাম উচ্চারণ করা এবং কোনো ধারালো বস্তু দ্বারা গলার দিক থেকে জবাই করা এবং শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও দুটি শাহরগের অন্তত একটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করত জবাই সম্পন্ন করা। এসব শর্তের কোনোটি না পাওয়া গেলে জবাই সহিহ হবে না এবং সে প্রাণী খাওয়াও জায়েজ হবে না। অবশ্য উপরোক্ত শর্ত পাওয়া যায়, এমন কেউ যদি জবাইয়ের সময় আল্লাহ নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তা হলে জবাই সহিহ হবে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত আল্লাহ নাম ছেড়ে দেয় তা হলে ওই জবাই সহিহ হবে না।
জবাইয়ের ক্ষেত্রে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা, যেন প্রাণীর অধিক কষ্ট না হয়। আরও কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখা উচিত। যেমন-
১. প্রাণীকে প্রয়োজন অতিরিক্ত কষ্ট না দেওয়া। তাই প্রাণী ধরা, শোয়ানো ও জবাইয়ের কাজগুলো এভাবে করা উচিত যেন প্রাণীর অতিরিক্ত কষ্ট না হয়।
২. জবাইয়ের সময় পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে কিবলামুখী করে বাম কাতে শোয়ানো এবং জবাইকারীর কিবলামুখী হয়ে জবাই করা।
৩. জবাইয়ের জন্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা। আল্লাহ তায়ালা সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব যখন তোমরা হত্যা করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো। যখন জবেহ করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে জবেহ করো। প্রত্যেকে তার ছুরিতে শান দেবে এবং তার পশুকে জবাই দেবে। (মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)।
৪. প্রাণীর সামনে অস্ত্র ধার না দেওয়া এবং এক প্রাণীর সামনে আরেক প্রাণী জবাই করা থেকে বিরত থাকা। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, কেউ যেন প্রাণীর দৃষ্টির সামনে ছুরিতে শান না দেয়। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক : ৮৬০৬)।
৫. দক্ষ ও পারদর্শী লোকের মাধ্যমে দ্রুত জবাইয়ের কাজ শেষ করা।
৬. শুধু গলার রগগুলো কেটেই ক্ষান্ত থাকা।
৭. গর্দান বা পূর্ণ মাথা বিচ্ছিন্ন না করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৮৬০০)।
৮. পুরোপুরি নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত কাটা-ছেলা ও এ জাতীয় অন্যান্য কাজ থেকে বিরত থাকা। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/১৮৮-৯০; আলমাবসুত, সারাখসী : ১১/২২৬; আলইখতিয়ার : ৪/২৩৬; আলমুহিতুল বুরহানী : ৮/৪৪৭)