প্রতিশোধ না নিলে কী মর্যাদা

মুফতি আতিকুল্লাহ আসাদ

ইসলামের আলো

পৃথিবীতে অনেক সময় জুলুম ও অনাচারের সম্মুখীন হতে হয়। যখন কেউ অত্যাচার করে তখন কেউ সহ্য করে, কেউ প্রতিশোধ গ্রহণ

2021-11-03T10:52:01+00:00
2021-11-03T10:52:01+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
প্রতিশোধ না নিলে কী মর্যাদা
মুফতি আতিকুল্লাহ আসাদ
প্রকাশ: বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১, ১০:৫২ এএম   (ভিজিট : ২০৩২)
পৃথিবীতে অনেক সময় জুলুম ও অনাচারের সম্মুখীন হতে হয়। যখন কেউ অত্যাচার করে তখন কেউ সহ্য করে, কেউ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, কেউ ক্ষমা করে আবার কেউ পাল্টা জুলুম করে। অত্যাচারের প্রতিশোধের সুযোগ থাকলেও ইসলামে প্রতিশোধ ত্যাগ করে ক্ষমা করলে আলাদা মর্যাদা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে ক্ষমা করতে পারা অনেক বড় মানবিক গুণ। জীবনে চলার পথে অনেকের আচরণে বা উচ্চারণে আঘাত আসতে পারে। প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমার শক্তি অর্জন করা চাই। এতে পরকালে যেমন মিলবে বিশাল প্রতিদান, দুনিয়ায়ও আসবে শান্তি, স্থিতি ও সম্মান। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় রাসুলকে (সা.) ক্ষমাশীল হওয়ার নির্দেশ প্রদান করে বলেন- ‘হে নবী! আপনি ক্ষমা করুন। সৎকাজের নির্দেশ দেন এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চলুন।’ (সুরা আরাফ : ১৯৯)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘অতএব আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করুন।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৫৯)। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষকে ক্ষমাশীল হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে বলেন- ‘তোমরা যদি ওদের ক্ষমা করো, ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করো এবং ক্ষমা করো তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা তাগাবুন : ১৪)।

ক্ষমা করা মুক্তাকিদের বৈশিষ্ট্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুত্তাকি তারাই, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা রাগ সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল হয়। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩৪)। ক্ষমা মহত্তের লক্ষণ। যারা যত বেশি মহৎ তারা তত বেশি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করলে ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। হজরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।’ (মুসলিম : ২৫৮৮)। 

নবী করিম (সা.)-কে তায়েফবাসী পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত করার পর আল্লাহ তায়ালা পাহাড়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাকে পাঠান। ফেরেশতা তায়েফবাসীকে কঠিন শাস্তি দেওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেননি, বরং তাদেরকে ক্ষমা করে তাদের জন্য এভাবে দোয়া করলেন- ‘হে আল্লাহ! তারা অজ্ঞ, তাই তারা আমার ওপর জুলুম করেছে। তুমি তাদেরকে ক্ষমা করো এবং হেদায়াত নসিব কর।’ (ইবনে হিব্বান : ৯৭৩)। তিনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা ছাড়া কখনও কাউকে আঘাত করেননি। 

নিজের স্ত্রীগণকেও না, খাদেমকেও না। তাঁকে কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনও প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। অবশ্য আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করলে আল্লাহর উদ্দেশ্যেই তিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) অশ্লীল ভাষী ছিলেন না এবং অশোভন কথা বলার চেষ্টাও করতেন না। তিনি হাট-বাজারে শোরগোলকারী ছিলেন না এবং তিনি মন্দের প্রতিশোধ মন্দ দ্বারা নিতেন না বরং তা ক্ষমা করে দিতেন এবং উপেক্ষা করে চলতেন।’ (মেশকাত : ৫৪৪৮)। অতএব প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি চেতনার দাবি হচ্ছে ক্ষমাগুণ অর্জন করা এবং সবার সঙ্গে ক্ষমাশীল আচরণ করা। এতে সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে আমাদের পার্থিব ও পরকালীন জীবন। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমাশীল আচরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

খতিব, রোশাদিয়া শাহি জামে 
মসজিদ, উত্তরা, ঢাকা


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: