পোশাকের ধরন বুঝে হ্যাঙ্গার

তনুশ্রী তমা

জীবন যখন যেমন

ব্যবহারের পর পোশাক সঠিকভাবে ঝুলিয়ে না রাখা কিংবা সংরক্ষণ করতে না পারায় অনেকের পোশাক নষ্ট হয়। আর পোশাক ঝুলিয়ে রাখার

2021-12-28T14:13:20+00:00
2021-12-28T14:13:20+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
জীবন যখন যেমন
পোশাকের ধরন বুঝে হ্যাঙ্গার
তনুশ্রী তমা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:১৩ পিএম   (ভিজিট : ১৬৫৩)
ব্যবহারের পর পোশাক সঠিকভাবে ঝুলিয়ে না রাখা কিংবা সংরক্ষণ করতে না পারায় অনেকের পোশাক নষ্ট হয়। আর পোশাক ঝুলিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই ধরন বুঝতে হয়। অনেকেই সঠিক নিয়ম না মেনে পোশাক ঝুলিয়ে যেমন নষ্ট করেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ভাঁজে থাকলে কোনো কোনো পোশাক পরার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তাই নিয়ম মেনে পোশাক হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা ভালো। একেক ধরনের পোশাক ঝোলানোর জন্য হ্যাঙ্গারও হয় ভিন্ন ভিন্ন। শাড়ি রাখার হ্যাঙ্গার আর শার্ট ঝোলানোর হ্যাঙ্গার মোটেও এক নয়।

হ্যাঙ্গার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগে কাপড়ের ধরন দেখতে হবে। তবে সংগ্রহে একাধিক আকৃতির হ্যাঙ্গার সংগ্রহে রাখলে সুবিধা পাওয়া যাবে। সচরাচর ব্যবহার করা হয় যেসব পোশাক সেগুলোর জন্য নির্বাচন করতে পারেন কাঠের হ্যাঙ্গার। ধাতু বা স্টিলের হ্যাঙ্গারগুলো অধিকাংশ পোশাকের জন্য ক্ষতিকর। আবার ছোট হ্যাঙ্গার পোশাকে ভাঁজ তৈরি করে। হ্যাঙ্গারের আকৃতি বড় হলে কলারযুক্ত পোশাকও নষ্ট হয়। 

কোন পোশাক কীভাবে হ্যাঙ্গারে রাখবেন-

কাপড় ঝুলাতে হ্যাঙ্গারের ভুল পদ্ধতি
অনেকে শার্ট বা টিশার্ট রাখার জন্য লম্বা আংটা যুক্ত হ্যাঙ্গার ব্যবহার করেন। ওই আংটায় ঝুলিয়ে দেন শার্ট অথবা টিশার্ট। সাধারণত এই হ্যাঙ্গারগুলো দরজার পেছনে বা দেয়ালে আটকে রাখা হয়। কিন্তু এসব হ্যাঙ্গারে শার্ট, টিশার্ট রাখলে পরার পর ঘাড়ের কাছে গোল হয়ে কাপড় ফুলে থাকে। অনেক সময় ধরে পোশাকটির গলার অংশের কাপড় বেড়ে যায়।

উলের পোশাক হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে না রাখা
উলের বা শীতের যেকোনো পোশাক সারা বছর ব্যবহারের হয় না। দীর্ঘদিন এগুলো অব্যবহৃত থাকে। তাই উলের পোশাক হ্যাঙ্গারে না রাখাটা উত্তম।

হ্যাঙ্গারে প্যান্ট ভাঁজ করে রাখবেন না
অনেকেই প্যান্ট ভাঁজ করে হ্যাঙ্গারে রাখেন। এতে প্যান্টে ছোট বড় খাঁজ তৈরি হয় ও ছোট-বড় দাগ পড়ে। প্যান্ট রক্ষা করতে হ্যাঙ্গারে সোজাসুজি ঝুলিয়ে দিতে পারেন।

ব্যবহারের পোশাক হ্যাঙ্গারে রাখুন
শাড়ি, শার্ট, প্রয়োজনে প্যান্ট যেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করেন, সেগুলো রাখার জন্যও শক্ত প্লাস্টিক বা কাঠের হ্যাঙ্গার ব্যবহার করুন। শাড়ি ভাঁজ করে, পশমি ও রেশমি কাপড় খোলা অবস্থায় ঝুলিয়ে, স্যুট ঝুলিয়ে, শার্ট খোলা অবস্থায় ঝুলিয়ে এবং প্যান্ট লম্বালম্বিভাবে এক ভাঁজ করে ঝুলিয়ে হ্যাঙ্গারে রাখলে ভালো থাকবে।

ড্রাইক্লিন করা পোশাক হ্যাঙ্গারে ঝুলানো
স্যুট, ব্লেজার নিয়মিত পরা হয় না, এমন পোশাক ড্রাইক্লিন করে প্লাস্টিকে ঢেকে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখলে পোশাকের ফেব্রিক নষ্ট হয়ে যায়। পোশাকের ভেতর বাতাস চলাচল বন্ধ থাকায় কাপড়ে থাকা কেমিক্যাল ছড়িয়ে পড়ে। ধুলোবালি থেকে পোশাক সংরক্ষণ করতে প্লাস্টিকে ঢেকে রাখলেও হয়, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

হ্যাঙ্গার হোক মসৃণ
অনেক সময় হ্যাঙ্গারের ওপরের তল যেন মসৃণ থাকে না। এতে কাপড়ের সুতায় টান পড়তে পারে। কাঠের হ্যাঙ্গারের ফিনিশিংও ভালো না হলে কাপড় ঘসা লেগে সুতা কিংবা বুননে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে মসৃণ স্টিল বা প্লাস্টিকের হ্যাঙ্গারের চেয়ে কাঠের হ্যাঙ্গারের স্থায়িত্ব এবং কাপড় যতেœ রাখার ক্ষমতা বেশি।

পোশাকের ধরন অনুযায়ী ডিজাইনের হ্যাঙ্গার
কাপড় ঝোলানোর জন্য বাজারে বিভিন্ন ডিজাইনের হ্যাঙ্গার পাওয়া যায়। প্লাস্টিক, স্টিল আর কাঠের হ্যাঙ্গারে আছে ফুল, লতাপাতার ও অন্যান্য ডিজাইন। ব্যবহারের পোশাকগুলো ঝুলিয়ে রাখলে অন্যরকম নান্দনিকতা প্রকাশ পাবে। শিশুদের উপযোগী হ্যাঙ্গারে আছে বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র, গাড়ি ইত্যাদি। টাই ঝোলানোর জন্য একটা লম্বা ফ্রেমের হ্যাঙ্গার ব্যবহার করতে পারেন। স্কার্ফ, ওড়না বা মাফলার ঝোলানোর জন্য গোল গোল ফ্রেম; স্যুটের জন্য যে হ্যাঙ্গার কিনবেন তা যেন কাঁধের দিকটা মোটা হয়।

হ্যাঙ্গারের দরদাম ও প্রাপ্তিস্থান
ডিজাইন ও মান অনুযায়ী প্রতি পিস প্লাস্টিকের হ্যাঙ্গারের দাম ৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ স্টিলের হ্যাঙ্গার পাবেন ১৫ থেকে ১৮০ টাকায়। তবে তুলনামূলকভাবে ১০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন রকমের হ্যাঙ্গার পাওয়া যায়। রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে নানা নকশার হ্যাঙ্গার পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, মৌচাক মার্কেট, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, কারওয়ান বাজার, জাপান গার্ডেন সিটি, পুরান ঢাকাসহ দেশের সব মার্কেটেই হ্যাঙ্গার পাওয়া যায়।




Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: