ঘাঁটিতেই নৌকার পরাজয়, কম ভোটের যত রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

ফরিদপুর-১ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। বোয়ালমারী-মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিগত দিনের সব নির্বাচনে একচেটিয়া আধিপত্য

2021-12-30T00:43:36+00:00
2021-12-30T00:43:36+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
ঘাঁটিতেই নৌকার পরাজয়, কম ভোটের যত রেকর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:৪৩ এএম 
ফরিদপুর-১ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। বোয়ালমারী-মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিগত দিনের সব নির্বাচনে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছিল আওয়ামী লীগ। কেবল এরশাদ জমানায় বিতর্কিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন। এবার বোয়ালমারীর ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। তিনটি ইউপিতে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে নৌকার প্রার্থীর। এ ছাড়া রাঙামাটি জেলার ১০ ইউপির ভোটে আওয়ামী লীগের জয় মাত্র ১টিতে। বাকি ৯টিতে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

সিলেট-৬ আসনের অন্তর্গত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার। ১৯৭৩ থেকে ২০২১ সাল। সংসদীয় আসনটি স্বাধীনতা-পরবর্তী সাত মেয়াদ ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদই চার মেয়াদে এমপি হন এই আসন থেকে। ফলে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলা চলে। গত রোববার এ দুই উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন নির্বাচনের ১৩টিতেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। সবচেয়ে লজ্জার ইতিহাস তৈরি হয়েছে ৪টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীরা জামানত রক্ষার মতো ভোট পাননি।

গোলাপগঞ্জের লক্ষ্মণাবন্দ ইউপিতে নৌকার প্রার্থীর ভোট সর্বসাকল্যে ১৩৯টি। জামানত হারানোর পাশাপাশি নৌকায় মাত্র ২ ভোট পড়েছে ইউনিয়নের ফুলসাইন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আরেক জেলা শেরপুর। ওই জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় ৯টি ইউপির মধ্যে সাতটিতেই হেরেছে নৌকা। ওই সাতটি ইউপির চারটিতে স্বতন্ত্র ও দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা বিজয়ী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকখ্যাত ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মতো জায়গাতেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা প্রার্থীদের করুণ অবস্থা দেখা গেছে। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চতুর্থ ধাপে ৮৩৬টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সরাসরি ভোট হয় ৭৯৭টি ইউপিতে। বাকি ইউনিয়নগুলোতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ভোট হওয়া অন্তত ১২০টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ১১০টি ইউপিতে তৃতীয় বা চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন তারা। ক্ষমতাসীনদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ২৮টি ইউপিতে।

আওয়ামী লীগের একটি বড় ঘাঁটি কিশোরগঞ্জ। রোববার জেলার হোসেনপুর, কটিয়াদী ও ভৈরবের ২২টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টিতে হেরেছে নৌকা। জেলায় আওয়ামী লীগের সবচেয়ে করুণ দশা কটিয়াদী উপজেলায়। সেখানে ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ জিতেছে ২টিতে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের রামগোপালপুর ইউনিয়নে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ৩ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়। তবু নৌকার পরাজয় ঠেকানো যায়নি। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পাস করেছেন ২টি ইউনিয়নে, ৪টিতে স্বতন্ত্র ও ৩টিতে বিদ্রোহীরা জিতেছেন। ফল স্থগিত আছে ১টি ইউপির।

দিনাজপুরের ২১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের অন্তত ৬ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। রাঙামাটি জেলার ১০ ইউপির মধ্যে মাত্র ১টিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৯ ইউপির মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে মাত্র ২টিতে। বাকি সাতটির মধ্যে তিনটিতে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের।

সিলেট বিভাগের ৮১ ইউপির ৪৭টিতেই নৌকার ভরাডুবি : বিভাগের চার জেলার ৯টি উপজেলার ৮১টি ইউপির নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। প্রায় সব ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির মূল কারণ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা।

এ বিভাগের যে ৯টি উপজেলায় চতুর্থ ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে সেগুলো হলো- সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, হবিগঞ্জের লাখাই, বানিয়াচং, সুনামগঞ্জের দিরাই, বিশ্বম্ভরপুর ও জগন্নাথপুর। এসব ইউনিয়নের ৪৭টিতে বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র (বিএনপি), জামায়াত, জাপার প্রার্থীদের দাপটে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, চারটিতে আওয়ামী লীগ এবং তিনটিতে স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। রাজনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চারটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, তিনটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী জয়ী হন। হবিগঞ্জের লাখাই ও বানিয়াচং উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের ১৩টিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও ৭টিতে স্বতন্ত্র।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নৌকার বিজয় এসেছে তিনটিতে। অন্য ৭টির মধ্যে দুটিতে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র), দুটিতে জামায়াত (স্বতন্ত্র), দুটিতে বিএনপির (স্বতন্ত্র) ও এক প্রবাসী প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ, দুটিতে বিদ্রোহী, দুটিতে জামায়াত, একটি জাপা ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা জয় পেয়েছে সাতটিতে। বাকি ৯টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

পাবনা : পাবনা সদর, আটঘরিয়া ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ৪টিতে নৌকা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে। পাবনা সদরের ৯টি ইউনিয়নে পরাজিত হয়েছে নৌকা। বেশিরভাগ ইউনিয়নে দলের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন।

চতুর্থ ধাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন বিএনপির ৭৫ জন নেতা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি জিতেছে ৬টিতে, চরমোনাইর পীরের অনুসারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জিতেছে ২টিতে এবং জাকের পার্টি ও জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) জিতেছে ১টি করে ইউনিয়নে।

নৌকার ঘাঁটিতে এমন পরাজয়ের বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএম মোশাররফ হোসেন মুশা মিয়া বলেন, প্রার্থী বাছাই নিয়ে কিছু একটা হয়েছে। সঠিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেওয়ায় এমন ফল পেয়েছি আমরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মৃধা পিকুল বলেন, নৌকার ঘাঁটিতে এমন পরাজয় আমাদের জন্য লজ্জাজনক। প্রার্থী বাছাই সঠিক হলে এমন ফলাফল হয়তো হতো না।

জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টার বলেন, দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এমনটি হয়েছে। যারা মনোনয়ন বোর্ডে ছিলেন তাদের আরও বিচার-বিশ্লেষণ করে মনোনয়ন দেওয়া উচিত ছিল।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন নির্বাচন নিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচনে দলের নৌকার প্রার্থীদের পরাজয়ের দায় আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। এবারের নির্বাচনে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচনি বোর্ড। আমরা কেন্দ্রের কাছে একটি তালিকা পাঠিয়েছিলাম; কিন্তু সে তালিকা অনুসারে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউর রহিম লাল বলেন, এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী পরাজয়ের বিষয়টি আমরা দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পাবনায় আমাদের দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। নৌকার পরাজয়ের পেছনে একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে।

নৌকা প্রতীকের কম ভোটের যত রেকর্ড
নৌকা প্রতীক নিয়ে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সর্বনিম্ন ভোটের রেকর্ড কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিরিংগা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী শাহনেওয়াজ রুমেলের। মোট ১০ হাজার ৪৩৬ ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৬৭ ভোট। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল হোছাইন চৌধুরী ৩ হাজার ৬৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি স্থানীয় এমপি জাফর আলমের আত্মীয় ও আশির্বাদপুষ্ট বলে জানা গেছে। নৌকার প্রার্থী শাহনেওয়াজের অভিযোগ, তাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী তার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেননি। এর আগে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জান্নাতুল বকেয়া রেখা মাত্র ৯৯ ভোট পেয়ে সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে কম ভোট পেয়ে রেকর্ড করেছিলেন।

চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৪৯৬ ভোটের মধ্যে নৌকার প্রার্থী হাসিনা বেগম পেয়েছেন ৯৩ ভোট। তিনি এখন পর্যন্ত নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ভোটের রেকর্ডধারী।

বগুড়ার কাহালুর কালাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজাহার আলী মাত্র ১১২ ভোট পেয়েছেন। এতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনি একটি কেন্দ্রে মাত্র ১ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবায়দুর রহমান সবুজ চার হাজার ৪৭৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউপিতে নৌকার প্রার্থী এসএম আনিছুজ্জামান নৌকা প্রতীক নিয়ে মাত্র ১১৮ ভোট পেয়েছেন। ইউপির মোট ভোটার ২০ হাজার ৬৮৯ জন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবদুল করিম খান ১৩৯ ভোট পেয়েছেন। একটি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২ ভোট। এ ইউনিয়নে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ২৪৮। এ ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খলকুর রহমান ৯ হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৭ হাজার ২২৬ ভোট।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সময়ের আলোর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা)

/জেডও/



  বিষয়:   আওয়ামী লীগ 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: