রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) নতুন বছরের প্রথম দিনে শুরু হতে যাচ্ছে প্রথম বারের মতো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। গত বছর এ বাণিজ্যমেলা হওয়ার কথা থাকলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। এখন পুরোদমে চলছে মেলা প্রাঙ্গন সৌন্দর্য বর্ধণ ও স্টল প্রস্তুতির কাজ। এখনই দর্শনার্থীদের পদচারণায় উৎসব মুখর হয়ে উঠেছে এখানকার পরিবেশ। এ নিয়ে দর্শনার্থী ও সাধারণ মানষের মাঝে আগ্রহ ও উম্মাদনার কমতি নেই। তবে মেলার প্রবেশমুখের দুই মহাসড়কে নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় যাতায়াতে কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, রাজধানীর কুড়িল থেকে ৩০০ ফিট সড়কটিতে উন্নয়ন কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এতে উভয়পাশে দীর্ঘদিন ধরে যানজটের কবলে পড়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এ সড়কে যাতায়াতকারীরা। এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা বাইপাস সড়কের ৪ লেনে উন্নীত হওয়ার কথা থাকলেও কাজে কোনো অগ্রগতি নেই। কাজ চলছে ঢিমেতালে। ফলে পুরনো ২ লেনের সড়কটিতে মালবাহী ট্রাক চলাচল করায় নিত্য যানজট চিত্র এখানকার ভোগান্তির কারণ। এমন পরিস্থিতিতে পূর্বাচল ৪নং সেক্টরেরর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন অভ্যন্তরীণ প্যাভিলিয়ন প্রস্তুত হচ্ছে মেলার স্টল।
স্থায়ী স্টলের সাজসজ্জা আর অস্থায়ী স্টলের নির্মাণ কাজের মধ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্তব্যরত শ্রমিক ও স্টল বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীরা। তবে প্রস্তুত নয় চারপাশের যাতায়াত পরিবেশ। ইতোমধ্যে সড়কগুলো হয়ে পড়েছে খানাখন্দে ভরপুর। এবারের মেলায় চলাচলের সুবিধার্থে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লইওভার থেকে মেলা প্রাঙ্গণে বিআরসিটিসির বাস চলবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্বাচলের রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের জন্য উপযোগী করার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের ৩১২ নম্বর রোডের ০০২ নম্বর প্লটে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। ৩৫ একর জমির ২৬.১০ একরের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এ সেন্টার। আধুনিক কারপার্কিং, সম্মেলন কক্ষ, সভাকক্ষ, প্রেসসেন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ডরমিটরি রয়েছে। এছাড়া এক্সিবিশন সেন্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক সিসি টিভি ক্যামেরা, আধুনিক ব্যবস্থাসহ বিদ্যুতের নিজস্ব সাবসেন্টার, সার্ভিস রুম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, কালভার্ট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।
রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছালাউদ্দিন ভুইয়া বলেন, অপেক্ষার প্রহর শেষে করোনা মহামারী পরিস্থিতি কাটিয়ে ১ জানুয়ারী শুরু হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবারই প্রথম গ্রামের লোকজন সরাসরি সুযোগ পাচ্ছে এ মেলার সুবিধা নিতে। এখানকার সাধারণ ও সহজ সরল মানুষ এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিক বলেন, বেশ কয়েক মাস পূর্বে রাজউকের চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার ও ইপিবির কর্মকর্তারা মিলে সভা করেছি। সেখানে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্বাচলের ১৩ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের জন্য উপযোগী করার সিদ্ধান্ত হয়। যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন প্রায় হয়েছে। ফলে দুই লেন করে দুইপাশে চার লেনে গাড়ি চলবে। কোনো কোনো জায়গায় হয়তো বেশিও থাকবে। এখনই অনেক জায়গায় প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে।
মেলা আয়োজক কমিটির পরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী (সচিব) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১জানুয়ারী ভিডিও কনফারেন্সে মেলার উদ্বোধন করবেন। তা মাসব্যাপী চলবে। দেশ বিদেশের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শন মেলাকে আকর্ষণীয় করে তুলবে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় থাকবে ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য।
১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছরই অস্থায়ীভাবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অস্থায়ী জায়গায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। টানা ১ মাস এই মেলার কারণে সৃষ্টি হতো দীর্ঘ। ফলে ভোগান্তিতে পড়তো রাজধানীবাসী। স্থায়ী প্যাভিলিয়ন হিসেবে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। পরে গত ২১ অক্টোবর প্রদর্শনী কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৭৭৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে চীনের অনুদান ৫২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারের ২৩১ কোটি টাকা ও ইপিবি নিজস্ব তহবিল থেকে ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছে।
/এসএ/এমএইচ/